📌 ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিবারম্যান রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন জিতে রাখতে নেতানিয়াহু ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে সেনাদের জীবন বিপন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রেও নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন জিতে রাখতে ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে সেনাবাহিনীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান। তিনি নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইরানের সাথে যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ: সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিবারম্যান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয় এড়াতে নেতানিয়াহু ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে সেনাদের জীবন বিপন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন।
- 📌 সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুর বিরোধ: চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে ইরানের সাথে সংঘাত বাধিয়ে দিতে সেনাপ্রধান জামিরের সাথে নেতানিয়াহুর মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল।
- 📌 বিরোধীদের অভিযোগ: বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু ইরানের সাথে উত্তেজনা বাড়িয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ: মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্টের পদত্যাগের পর জানা গেছে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চাপ দিয়েছিলেন।
- 📌 মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্দেহ: নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পঙ্গু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
গত ২৭ অক্টোবর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিবারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারাকে একটি চিঠি লিখে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনের ঠিক আগে ইসরাইলকে যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে ইসরাইলি সেনাদের জীবন বিপন্ন করতে প্রস্তুত থাকা—দুটিই রাষ্ট্র, তার নিরাপত্তা ও সেনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, নির্বাচনের দুই দিন আগে ইরানের সাথে আকস্মিক সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেনাপ্রধান নেতানিয়াহুর নির্দেশ মানতে রাজি হননি। বিরোধী দলের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জননিরাপত্তার চেয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট সতর্ক করে বলেছেন, সেনাবাহিনীকে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রেও নেতানিয়াহুর ইরান যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সাবেক মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট ইসরাইলের চাপ ও তদবিরের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি পদত্যাগের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক শুরু হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পঙ্গু করে দেয়া যাবে। পাশাপাশি দেশটির সরকার উৎখাতের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্দেহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে রাজি করা হয়েছিল।
"নির্বাচনের ঠিক আগে ইসরাইলকে যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা এবং নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে ইসরাইলি সেনাদের জীবন বিপন্ন করতে প্রস্তুত থাকা—দুটিই রাষ্ট্র, তার নিরাপত্তা ও সেনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক), ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আভিগদর লিবারম্যান, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আইয়াল জামির, ইয়ার লাপিদ, জো কেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর, ২৮ অক্টোবর, ১২ (চ্যানেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!