📌 বিজ্ঞানী ও লেখক ড. রেজাউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁর স্মৃতিকে স্মরণ করছেন। তাঁর মৃত্যুর ১ বছর পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর অবদান ও জীবনের স্মৃতিচারণ করছেন
বিজ্ঞানী ও লেখক ড. রেজাউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বেদনা ও স্মৃতির সুরে ভরা এক স্মরণসভা আয়োজন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণকারী এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মাসিক বিজ্ঞানচিন্তা স্মরণসভায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর মেজো ভাইয়ের জীবন ও অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী ড. রেজাউর রহমান ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন, যা পরিবারকে বেদনা ও স্মৃতির মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে
- 📌 পরিবার ছিল ৯ সদস্যের (৪ ভাই, ৫ বোন) — বর্তমানে ৭ সদস্যের, কারণ বড় দুই ভাই (লুৎফুর রহমান ও রেজাউর রহমান) মৃত্যুবরণ করেছেন
- 📌 রেজাউর রহমানের প্রথম গল্প ‘ঘরমুখো মন’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়, এবং তিনি বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবদান রেখেছেন
- 📌 তাঁর লেখা ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গল্প, উপন্যাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ
- 📌 প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি আণবিক গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করেছেন এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন চেক বিজ্ঞান একাডেমি থেকে
- 📌 তাঁর বন্ধু মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে মিলে ১৯৮৪-৮৭ সালের মধ্যে বাংলা একাডেমির জন্য প্রাণিবিদ্যার সিলেবাসের বই লেখেন
📰 বিস্তারিত
মতিউর রহমান তাঁর মেজো ভাইয়ের স্মৃতিচারণে বলেছেন, “আমরা ৯ ভাই-বোন ছিলাম — চার ভাই ও পাঁচ বোন। বর্তমানে আমাদের ৭ সদস্যের পরিবার। আমাদের বড় ভাই লুৎফুর রহমান প্রকৌশলী ছিলেন, যিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারকে আজও শোকগ্রস্ত করে রেখেছে। দ্বিতীয় ভাই ড. রেজাউর রহমানের মৃত্যু ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর ঘটে। তাঁকে আমরা ‘ভেয়ে’ বলে ডাকতাম।”
তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের বড় দুই ভাইয়ের জন্ম ও শৈশব কেটেছে ঢাকায় এবং কলকাতায়ও কিছু সময় কাটিয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল মাদ্রাসায়, কিন্তু পরে নানাভাই আবদুশ শহীদ তাঁদের মাদ্রাসা থেকে বের করে নবাবপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে ভর্তি করান। নানাভাই ছিলেন আইনজীবী এবং অবিভক্ত ভারতের নির্বাচিত বঙ্গীয় পরিষদের সদস্য। তাঁর আধুনিক চিন্তাধারা পরিবারের সবার প্রিয় ছিলেন।”
রেজাউর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকা কলেজ থেকে এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা করেন। তিনি মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাই তিনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি রাজশাহী কলেজে এবং আণবিক গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করেছেন। ১৯৭৯ সালে তিনি চেক বিজ্ঞান একাডেমি থেকে কীটতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার কাজের জন্য তিনি মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।
তাঁর লেখালেখির প্রতি ছিল বিশেষ আগ্রহ। তাঁর প্রথম গল্প ‘ঘরমুখো মন’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবদান রেখেছেন। তাঁর লেখা ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গল্প, উপন্যাস ও বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ। তাঁর প্রিয় কবি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তিনি নিয়মিত তাঁর কবিতা পাঠ করতেন।
"আমাদের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ১৯৬৫ সালের প্রকাশিত ‘ঝড়ের খেয়া’ সংকলনে তাঁর গল্পও প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের মধ্যে সফলভাবে সেতু স্থাপন করেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, কলকাতা, লন্ডন, প্রাগ (চেক প্রজাতন্ত্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মতিউর রহমান (প্রথম আলো সম্পাদক), ড. রেজাউর রহমান, লুৎফুর রহমান, আবদুশ শহীদ, মোশাররফ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৪১ (জন্মবছর), ২৬ (অক্টোবর), ১৩ (নভেম্বর), ৯ (সদস্যসংখ্যা), ৫০ (বছর), ১০ (বই)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!