📌 পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের 'ক্রসফায়ার' করার কথা বলার পর মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংবিধান ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে এই বক্তব্যকে বিপজ্জনক হিসেবে দেখছে তারা
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের 'ক্রসফায়ার' করার কথা বলার পর বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে দেখছে সংগঠনগুলো। আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করেছে তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন, 'সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করব' — এই বক্তব্যের জন্য তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
- 📌 মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারবহির্ভূত হত্যা বৈধ নয়।
- 📌 টিআইবি ও আসক আইজিপির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি করেছে। তারা জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।
- 📌 জামায়াতে ইসলামী ও আমার বাংলাদেশ পার্টি আইজিপির বক্তব্যকে চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও সংবিধান বিরোধী আখ্যায়িত করেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে বাংলাদেশের 'ক্রসফায়ার'-এর অভিযোগে র্যাব ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার পুরান চকবাজারে ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অনুমতি দেয়, আমরা সেটাই করব’। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, পুলিশ যদি বলপ্রয়োগ করে তাহলে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হয়, নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। তবে তিনি আইন ও সংবিধান মেনে দায়িত্ব পালনের কথাও বলেছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আইজিপির বক্তব্যকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশপ্রধান কি ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন? তাঁর মতে, পেশাদার তদন্ত ও বিচারের বদলে ক্রসফায়ারের কথা বলা পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, কোনো নাগরিক অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁকে আদালতের বাইরে হত্যার অধিকার রাষ্ট্রের নেই। তারা সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা চেয়েছে যে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকে কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি ছিল।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দাবি করেছে, পুলিশপ্রধানের বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বিচারবহির্ভূত হত্যার ছাড়পত্র হিসেবে দেখা হতে পারে। তারা জানিয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাঁচটি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা তারা নথিবদ্ধ করেছে। সংগঠনটি ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়েছে।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) বলেছে, অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের বৈধতা নির্ভর করে আইনের প্রতি আনুগত্যের ওপর, বিচারবহির্ভূত পদ্ধতির ওপর নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছে, সরকার এমন হত্যাকাণ্ডকে অনুমোদনযোগ্য মনে করে কি না?
"আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনো সময়ই বৈধ নয়।" — আইজিপি আলী হোসেন ফকির
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার চকবাজার, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি), জামায়াতে ইসলামীর নেতা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!