📌 চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডংলু ক্যাম্পাসে ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে চীন-দক্ষিণ এশিয়া সভ্যতা ও যোগাযোগবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এনএসইউ সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনে বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি ও সবার জন্য ঐক্য নিয়ে আলোচনা হয়
চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডংলু ক্যাম্পাসে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) শুরু হয়েছে ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া সভ্যতা ও যোগাযোগবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন’। এই সম্মেলনটি চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি, সবার জন্য ঐক্য’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছেন সম্মেলনে।
- 📌 সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মা ওয়েনহুই বলেছেন, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- 📌 নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও এনএসইউর মধ্যে দুই দশক ধরে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে।
- 📌 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহসভাপতি অধ্যাপক ইয়াং শাওজুন ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছেন।
- 📌 সম্মেলনে ‘২+১+১’ স্নাতক কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে, যা নৃতত্ত্ব বিষয়ে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেবে।
- 📌 গবেষকরা সাতটি অধিবেশনে আলোচনা করেছেন রাজনৈতিক সম্পর্ক, অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক দক্ষিণের জ্ঞান উৎপাদন বিষয়ে।
📰 বিস্তারিত
চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই সম্মেলনে। সম্মেলনটি আয়োজন করেছে সেন্টার ফর চায়না-সাউথ এশিয়া সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (সিএসএসসিএস)। এই কেন্দ্রটি ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এথনোলজি অ্যান্ড সোসিওলজি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সম্মেলনের সহযোগী আয়োজক হিসেবে রয়েছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার এথনিক মাইনরিটি স্টাডিজ, যা চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মা ওয়েনহুই বলেছেন, “ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের সভ্যতাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিময় চলেছে।”
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, “২০০৬ সালে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও এনএসইউর সহযোগিতার সূচনা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চীন-দক্ষিণ এশিয়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে।”
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা পর্বে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিং জুন ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের’ দৃষ্টিকোণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) পরিচালক অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক একবিংশ শতাব্দীতে চীন-দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনা ও কাঠামোগত বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করেছেন।
"নিজের সংস্কৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করা, অন্যের সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে স্বীকৃতি দেওয়া, সব সংস্কৃতির সৌন্দর্য ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ভিত্তিতে একটি বিশ্ব গড়ে তোলা — এটিই ফেই শিয়াওতংয়ের দর্শনের মূল বক্তব্য।"
তিন দিনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী গবেষকরা সাতটি অধিবেশনে আলোচনা করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, অবকাঠামোগত যোগাযোগ, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ, সভ্যতার মধ্যে বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের জ্ঞান উৎপাদন ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডংলু ক্যাম্পাস, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মা ওয়েনহুই (প্রেসিডেন্ট, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়), আবদুল হান্নান চৌধুরী (উপাচার্য, এনএসইউ), ইয়াং শাওজুন (সহসভাপতি, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়), নেছার ইউ আহমেদ (সহ-উপাচার্য, এনএসইউ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ, ২৪ অক্টোবর (শুরু তারিখ), ২০০৬ (কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা), ২০২৩ (সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধ্যয়নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!