📌 যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার যুক্তরাজ্যকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরায়েলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন গাজা সমন্বয় মিশনে আর যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না। এছাড়াও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জেরেমি করবিনসহ বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা** ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
- 📌 **ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার** ঘোষণা দিয়েছেন, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন।
- 📌 **বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু** নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি** এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী** পৃথক বিবৃতিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
- 📌 **ইসরায়েল সরকার** পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন করছে, যারা ফিলিস্তিনিদের বসতিগুলো থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ এবং এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ আখ্যায়িত করেছেন। মিলিব্যান্ডের মন্তব্য ছিল ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতিগুলো ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কারণ। গিডিয়ন সার বলেন, ‘বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে’।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার আমাদের প্রচেষ্টায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল’। তারা বলেছেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালাবেন। এছাড়াও, ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে’।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্য ইসরায়েলকে বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ইসরায়েলের সরকারি প্রতিক্রিয়ায় জানা গেছে, পশ্চিম তীরের সবচেয়ে কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন করছে ইসরায়েল সরকার। এসব বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বসতিগুলো থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।
"ব্রিটিশদের এ পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ।"
"(পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি) অন্যায় ও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু ‘তুলে ধরলেই’ আর চলবে না। বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ব জেরুজালেম (ব্রিটিশ কনস্যুলেট), পশ্চিম তীর (অবৈধ ইসরায়েলি বসতি), জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গিডিয়ন সার (ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), এড মিলিব্যান্ড (যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী), অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী), এমানুয়েল মাখোঁ (ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট), মার্ক কার্নি (কানাডার প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেনসহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!