📌 মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুতিরা সৌদি আরবের হামলার কারণে তেলের দামে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অর্থনীতিকে আরও চাপিয়ে দিতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে আক্রমণের ফলে তেলের দামে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম, যা গত জুলাইয়ের পর প্রথম ঘটনা।
- 📌 ৭০ জনের বেশি আহত হুতিরা সৌদি আরবের হামলায়, তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
- 📌 ২৫ শতাংশ বেড়েছে আগস্টের শুরু থেকে তেলের দাম।
- 📌 ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে দাম, যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে।
- 📌 সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের মতে, বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে পারে।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে আক্রমণের ফলে তেলের দামে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর দেশটির একাধিক তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’ করার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামবে এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম দফায় হামলা শুরু করল, তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গ্যাসের বাজারেও। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে। সুদহার বাড়লে ঋণের খরচ বেড়ে যায়, ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ে।
"হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরব, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুতিরা (ইরান-সমর্থিত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ ডলার (ব্যারেলপ্রতি দাম), ৭০ জন (আহত), ২৫ শতাংশ (দাম বৃদ্ধি), ১৫০ ডলার (ম্যাক্সিমাম সম্ভাব্য দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!