📌 ইসরাইলের আরব নেতা আহমাদ তিবি বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে পারেনি
ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য চাবিকাঠি হিসেবে আরব নেতা আহমাদ তিবির নাম উঠেছে। তিনি বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে। আহমাদ তিবি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য এবং আরব সদস্যদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সরকারকে নির্বাচনে হারিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলো ‘চেঞ্জ ব্লক’ গঠন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরাইলের আরব নেতা আহমাদ তিবি বিরোধী জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে।
- 📌 ‘চেঞ্জ ব্লক’-এ রয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি, ইয়ার লাপিদের ইয়েশ আতিদ এবং নাফতালি বেনেটের বেয়াখাদসহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল।
- 📌 প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর নেতানিয়াহুর জোট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫৩টি পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে কম।
- 📌 বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটের দল ৪৮টি আসন পেতে পারে, আরব দলগুলো মোট ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যার মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট ৭টি আসন পাবে।
- 📌 আরব ভোটারদের অংশগ্রহণকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে আহমাদ তিবি বলেছেন, আরব দলগুলোর বাদ দিয়ে ইসরাইলে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।
- 📌 নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
আহমাদ তিবি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ জয়েন্ট লিস্টের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। তার ভাষায়, ইসরাইলে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয় আরব দলগুলোর বাদ দিয়ে। তিনি নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করতে চান।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেতানিয়াহু সরকারের নীতি এবং ইসরাইলের ভেতরে আরবদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তাদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। এ কারণে অতীতে অনেক আরব ভোটার নির্বাচনে অংশ নিতেন না। তবে এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আরব ভোটারের অংশগ্রহণ আরব দলগুলোর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট কৌশল না থাকার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের জুনে মন্ত্রিসভা ছাড়েন। গাজা যুদ্ধে আইজেনকটের ২৫ বছর বয়সি ছেলে গাল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিহত হন। তার দুই ভাতিজাও যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের এই ক্ষতি তার সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
"আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ জয়েন্ট লিস্টের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। আরব দলগুলোর বাদ দিয়ে ইসরাইলে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল, তুরস্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহমাদ তিবি, গাদি আইজেনকট, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নাফতালি বেনেট, ইয়ার লাপিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ ভোট, ১২০টি আসন, ৫৩টি আসন, ৬১টি আসন, ৪৮টি আসন, ১৯টি আসন, ১২টি আসন, ৭টি আসন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!