📌 মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আহ্বানে তেহরানে গিয়ে লেখক দেখেছেন যুদ্ধরত ইরানের অবস্থা। ইরান বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইরানের জ্বালানি সম্পদ ও যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে তিন দিনের জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলেন একজন মেডিক্যাল ট্যুরিস্ট। ইরান পাবলিক প্রাইভেট হসপিটালের (আইপিএইচ) সহযোগী প্রতিষ্ঠান টেব মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আমন্ত্রণে এই সফর। এইবার দলটি ছিল মাত্র তিনজন। এর আগে ২০১৯ সালে প্রায় ১৭ দিনের জন্য ইরান সফর করার সুযোগ হয়েছিল। সে সময় ইরানের মেডিক্যাল সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার তেহরানে ইরানের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে ক্যানসার ও ফার্টিলিটি সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব পুনরাবৃত্তি করেন। আলোচনায় ইরানের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ঢাকা-তেহরান সরাসরি যোগাযোগ শুরু করার জন্য বাংলাদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি** যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়, যার ফলে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা নিহত হন
- 📌 **২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে** হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে **২ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল** তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবাহিত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি ব্যবহারের **২০ শতাংশের** সমান
- 📌 **ইরানের প্রমাণিত তেলের মজুত** প্রায় **২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল** এবং **প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত** প্রায় **৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার** — বিশ্বের তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
- 📌 **চীন** ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা, যেখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিভিন্ন উপায়ে তেল রপ্তানি করছে
- 📌 **২০১৯ সালের সফরে** পারসেপোলিস ও সাইরাস সিলিন্ডারের প্রতিলিপি দেখার সুযোগ হয়েছিল, যা মানবসভ্যতার বিকাশে পারস্য উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্দেশ করে
📰 বিস্তারিত
২০১৯ সালের সফরে ইরানের বহু দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশিদের জন্য ইরানে চিকিৎসার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। একজন ইরানি চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে ক্যানসার ও ফার্টিলিটি সেন্টার স্থাপনের কথা বলেছিলেন। এবারের তেহরান সফরেও ইরানের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট একই প্রস্তাব পুনরাবৃত্তি করেন। আলোচনায় ইরানের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ঢাকা-তেহরান সরাসরি যোগাযোগ শুরু করার জন্য বাংলাদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা নিহত হন। এরপর ইরানের পাল্টাহামলা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে লেখকের মতে, যুদ্ধের ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা বাস্তবে ফল দেয়নি। তিন দিনের সফরে তিনি লক্ষ্য করেন, অনেক ইরানির মধ্যে বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষে সমর্থনের মনোভাব রয়েছে।
ইরানের যুদ্ধের প্রভাব ব্যাপক। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানের পাল্টাহামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। জুনে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও পরে তা ভেঙে যায় এবং হামলা-পাল্টা হামলা আবার শুরু হয়। সফরের সময়ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছিল, কিন্তু হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবাহিত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশের সমান।
ইরান নিজেও জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইরান ছিল বিশ্বের তৃতীয় সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেলের মজুতধারী দেশ (২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল) এবং দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতধারী দেশ (৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার)। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারপরও দেশটি বিভিন্ন উপায়ে তেল রপ্তানি করছে। চীন ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে দেশটির আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসও নিবিড়ভাবে জড়িত।
"২০১৯ সালের সফরে পারসেপোলিস ও সাইরাস সিলিন্ডারের প্রতিলিপি দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেই সিলিন্ডারটি আজ লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা আছে। পারস্য উপমহাদেশের সাহিত্য, স্থাপত্য ও সভ্যতার বিকাশে এই অঞ্চলের অবদান অপরিসীম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান), ঢাকা (বাংলাদেশ), লন্ডন (যুক্তরাজ্য), হরমুজ প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক, ইরানের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল, ২০ শতাংশ, ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল, ৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!