📌 গুজরাটের একটি আদালত মনুস্মৃতি ও বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে গরু জবাইয়ের মামলায় তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ রুপি জরিমানা দিয়েছে। অভিযোগে জড়িত ছয়জনের মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়
গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার একটি আদালত গরু জবাইয়ের মামলায় তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ রুপি জরিমানা করে দিয়েছে। বিচারক মনুস্মৃতি ও বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে রায় দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুজরাট আদালত মনুস্মৃতি ও বেদের আলোকে গরু জবাই মামলায় তিন মুসলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ রুপি জরিমানা দেয়া হয়েছে।
- 📌 অভিযুক্তদের মধ্যে ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি ও আসফাক বাহেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- 📌 ২৭৭ কেজি গরুর মাংস ও জবাইয়ের অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
- 📌 বিচারক বলেন, গরুকে ‘জগতের জননী’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি ৩৩ কোটি দেবতার আবাসস্থল।
- 📌 গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গুজরাট পশু সংরক্ষণ আইনের অধীনে গরু জবাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের আইন কখনোই ছাড়বে না।
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার গান্ধীনগর জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ বি আর রাজপুত রায় ঘোষণা করেন। বিচারক মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘গরু কেবল একটি প্রাণী নয়; বরং বস্তুগত সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় ন্যায়পরায়ণতার অন্যতম ভিত্তি। ঋষি মনু গবাদিপশুর সুরক্ষা ও পরিচর্যার দায়িত্ব বৈশ্য সম্প্রদায়ের ওপর অর্পণ করেছিলেন।’ বেদসহ অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থের আলোকে বিচারক আরও বলেন, ‘গরুকে ‘জগতের জননী’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তিনি ৩৩ কোটি দেবতার আবাসস্থল। গরুর চারটি পা চারটি বেদের প্রতীক।’
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা দুর্বল ও দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এমন গরু কিনত। পরে আহমেদাবাদ থেকে চার ব্যক্তিকে নিয়ে এসে পশুগুলো ‘নিষ্ঠুরভাবে’ জবাই করত। তাদের পরিকল্পনা ছিল গরুর মাংস গুলাম মইন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা। মামলার বিচার শেষে ছয় অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ৫৪ জন সাক্ষীকে হাজির করে এবং ১৮টি দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘নির্ভুল তদন্ত এবং শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের’ কারণে এই সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘গুজরাট পশু সংরক্ষণ আইনের অধীনে দেওয়া এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, গুজরাটে গরু জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইন কখনোই ছাড় দেবে না। গো-মাতার সুরক্ষা গুজরাটের অবিচল অঙ্গীকার।’
"গরু কেবল একটি প্রাণী নয়; বরং বস্তুগত সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় ন্যায়পরায়ণতার অন্যতম ভিত্তি। ঋষি মনু গবাদিপশুর সুরক্ষা ও পরিচর্যার দায়িত্ব বৈশ্য সম্প্রদায়ের ওপর অর্পণ করেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গান্ধীনগর জেলা, গুজরাট, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি, আসফাক বাহেলিম, বিচারক বি আর রাজপুত, হর্ষ সাংঘভি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭৭ কেজি গরুর মাংস, ৩ লাখ রুপি জরিমানা, ৩৩ কোটি দেবতা, ২২ আগস্ট ২০২৪, ৫৪ জন সাক্ষী, ১৮টি দালিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!