📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। দুই পক্ষই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে
- 📌 দুই পক্ষই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে
- 📌 সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হতো
- 📌 চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানের পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করার কথা ছিল
- 📌 ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ গতকাল শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল। তবে দুই পক্ষই এখন নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে আলাদা আলোচনা চলছে, তবে রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার নিউইয়র্কে সমর্থকদের সামনে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হতো। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানের কাছাকাছি অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং ইরানের পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করার কথা ছিল। এছাড়া ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং তেহরানকে বিদেশে জব্দ থাকা তহবিলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ইরানও তাদের দিক থেকে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ এবং ৬০ দিনের জন্য জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের ফি না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এছাড়া ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিল। তবে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
"যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।" — ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাগচি, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ দিন, ৩০ হাজার কোটি ডলার, ৬০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!