📌 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সত্ত্বেও ইরান গোপনে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে শক্তিশালী করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন ‘সালামি-স্লাইসিং’ কৌশলে ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা সত্ত্বেও ইরান গোপনে যুদ্ধ প্রস্তুতির পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানি ও আরব কর্মকর্তারা। গত জুনের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা স্মারক সই হলেও তেহরানের কট্টরপন্থী নেতারা ভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতে বড় হামলার জন্য সময় কেনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা স্মারক সই হলেও তেহরান যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে
- 📌 ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হচ্ছে
- 📌 ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে অভিজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
- 📌 পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে
- 📌 হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে ইরানের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে
📰 বিস্তারিত
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ ধীরে ধীরে অবসানের দিকে নিয়ে যাওয়া। তবে ইরানের কট্টরপন্থী নেতারা তেহরানে বৈঠকে বসে ভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁদের ধারণা ছিল, এই চুক্তি আসলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার প্রস্তুতির জন্য সময় কেনা।
ইরানের নেতারা আলোচনার ওপর আস্থা রাখার পরিবর্তে গত দুই মাসকে আরও বড় সংঘাতের প্রস্তুতিতে কাজে লাগান। তাঁদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) নিয়মিত সেনাবাহিনীর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। এছাড়া ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে অভিজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রসারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে।
ইরানের নেতৃত্ব দ্রুতই উদ্যোগ নিজেদের হাতে নেয়। তারা জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার চেষ্টা করে। যুদ্ধের ক্ষেত্র লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানের পারস্য উপসাগরীয় অবরোধ এড়িয়ে সৌদি আরব যে সমুদ্রপথটি ব্যবহার করে থাকে, সেই লোহিত সাগরকেও সংঘাতের আওতায় আনা হয়েছে।
‘ইরানে ব্যাপকভাবে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে মূল যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তা ক্রমেই ‘সালামি-স্লাইসিং’ কৌশলের আলোকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, বড় ধরনের সংঘাতের আগে সক্ষমতাগুলো দুর্বল করে দেওয়ার জন্য সীমিত ও ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়ানো।’
ইরানের এই প্রস্তুতি যুদ্ধের এই পর্যায়কে ওয়াশিংটন ও তেহরান কতটা ভিন্নভাবে দেখছে, তার মধ্যে বিশাল ব্যবধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দম্ভের উপাদানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ নেতৃত্বের আরও বাস্তববাদী অংশের সদস্যরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের এমন এক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন, যাতে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাসুদ পেজেশকিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!