📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই প্রত্যাবাসন ও সমাধানও সেখানেই হতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারে হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা চলছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানেই হতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
- 📌 আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 বঙ্গোপসাগরীয় সম্ভাবনা: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে।
- 📌 সামাজিক সুরক্ষা: ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ও মিড-ডে মিলের পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা।
- 📌 প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
📰 বিস্তারিত
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শুধু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নয়, সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। কারণ যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও সেখানেই হতে হবে।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রয়েছে বড় সম্ভাবনা। তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানান তিনি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আনন্দময় পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।
কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার কথা জানান। একই সঙ্গে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পাশাপাশি কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্প সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
"বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, ৮০ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!