📌 ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের ও নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, ইরানকে বিমানবন্দর সেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি দেশ ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে
ইরান মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধে মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানকে বিমানবন্দর সেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে এই অঞ্চলের কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণার পর ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই হুমকি দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, ‘ইরানকে বিমানবন্দর সেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে এই অঞ্চলের কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না’
- 📌 ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমেরিকার পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমরা শুধু বসে বসে দেখব না...আপনাদের (মধ্যপ্রাচ্যের) বিমানবন্দরগুলোতে কোনো ফ্লাইট চলতে দেওয়া হবে না’
- 📌 মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে যারা ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরান এয়ার এবং মাহানসহ ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে
- 📌 তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, আজারবাইজান ও জর্জিয়া ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে
- 📌 ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেনি, তবে পুরো দেশে ইরান পরিচালিত রুটগুলো স্থগিত করা হয়েছে
- 📌 মাহান এখনো রাশিয়া, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ফ্লাইট চালু রেখেছে
- 📌 চীন একমাত্র দেশ যেটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি এবং এগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই অঞ্চলের ফ্লাইট হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না’। তিনি আরও বলেছেন, ‘ইরানকে যদি আকাশপথে চলাচল এবং বিমানবন্দর সেবা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না’।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আপনারা যদি আমেরিকার পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমরা শুধু বসে বসে দেখব না...আপনাদের (মধ্যপ্রাচ্যের) বিমানবন্দরগুলোতে কোনো ফ্লাইট চলতে দেওয়া হবে না’।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণার পর ইরানকে আর্থিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান এয়ার এবং দেশটির বৃহত্তম এয়ারলাইন মাহানসহ ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে যারা ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও টিকিট বিক্রির মতো সেবা প্রদানকারী যেকোনো কোম্পানি এবং বিমানবন্দর পরিচালনাকারীরাও অন্তর্ভুক্ত।
এই ঘোষণার পর তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, আজারবাইজান ও জর্জিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেনি, তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, পুরো ইরাকজুড়েই ইরান পরিচালিত রুটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। মাহান এখনো রাশিয়া, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ফ্লাইটের তালিকা চালু রেখেছে। তবে এই দুই দেশের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি।
চীন একমাত্র দেশ যেটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি। বেইজিং এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে এবং এগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার আগেই ইরানি যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যাপকভাবে সীমিত ছিল।
"এই অঞ্চলের ফ্লাইট হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না। ইরানকে যদি আকাশপথে চলাচল এবং বিমানবন্দর সেবা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির, মোহাম্মদ মোখবের, মোহসেন রেজাই, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থা, ২৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!