📌 কলকাতার নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় (মিনি বাংলাদেশ) অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি ক্রেতাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। দৈনিক ১ কোটি টাকার ব্যবসা লোকসান হচ্ছে, যেখানে আগে বাংলাদেশি ক্রেতারা মোট বিক্রির ৬০% দায়িত্ব নিতেন। হোটেল-লজ বন্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন
কলকাতার নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন ‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকায় গত ১৯ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি ক্রেতাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই এলাকার প্রায় ৫ হাজার দোকানের দৈনিক সম্মিলিত ব্যবসা লোকসান হচ্ছে ১ কোটি টাকা। আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহ থেকে এই এলাকায় পোশাক, প্রসাধনী, লাগেজ, শুকনো ফল ও চকলেট বিক্রি করা দোকানগুলোতে ক্রেতাদের অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় (মিনি বাংলাদেশ) দৈনিক ১ কোটি টাকা ব্যবসা লোকসান হচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে
- 📌 বাংলাদেশি ক্রেতারা আগে মোট বিক্রির ৬০% দায়িত্ব নিতেন, এখন তা ৫% এরও কমে দাঁড়িয়েছে
- 📌 ৫ হাজার দোকানের মধ্যে ১ হাজার ৫০০টি দোকানে বাংলাদেশি ক্রেতারা নিয়মিত আসতেন, এখন তাদের সংখ্যা দ্রুত কমছে
- 📌 হোটেল-লজ বন্ধ ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন
- 📌 আগে দৈনিক ৮ কোটি টাকার ব্যবসা হতো, এখন তা ৩ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে
📰 বিস্তারিত
গত ১৯ আগস্ট ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি লজে আগুন লাগলে নয়জন বাংলাদেশি নিহত হন। সেই অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশি ক্রেতাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এই এলাকার প্রায় ৫ হাজার দোকানের মধ্যে ১ হাজার ৫০০টি দোকানে বাংলাদেশি ক্রেতারা নিয়মিত আসতেন। এসব দোকানে মূলত পোশাক, প্রসাধনী, ভ্রমণের সামগ্রী, ব্যাগ, চকলেট, শুকনো ফল ও গোটা মসলা বিক্রি হতো।
নিউ মার্কেটের বি ব্লকে স্যুটের কাপড় বিক্রি করা আম্রপালি শো-রুমের কর্মকর্তা মনোজ আদওয়ানি বলেন, ‘দুই বছরের বিরতির পর যখন পর্যটন ভিসা আবার চালু হলো, তখন ক্রেতারা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ড ও হোটেল বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা ৫ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে।’
মানসা শাড়ির দোকানের মালিক তরুণ ইসরানি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার প্রায় ৭০ শতাংশই আসত বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে। আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা কমে ১৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। ভিসা আবার চালু হওয়ার পর তা ধীরে ধীরে বাড়ছিল, কিন্তু অগ্নিকাণ্ড ও হোটেল বন্ধ হওয়ার পর তা দ্রুত কমছে।’
সালোয়ার-কামিজ বিক্রি করা ফ্যান্সি বুটিকে মন্দার মালিক অমিত সাহা জানান, ‘বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার আগে ক্রেতাদের সংখ্যা কমে ১৫ শতাংশে নেমেছিল। এখন তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশি ক্রেতারা ফিরে আসছেন না এবং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য থাকা ব্যক্তিরাও অন্য এলাকায় চলে গেছেন।'
"দুই বছরের বিরতির পর যখন পর্যটন ভিসা আবার চালু হলো, তখন ক্রেতারা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ড ও হোটেল বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা ৫ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতার নিউ মার্কেট, হুমায়ুন প্লেস, বার্ট্রাম স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনোজ আদওয়ানি (আম্রপালি শো-রুমের কর্মকর্তা), তরুণ ইসরানি (মানসা শাড়ির মালিক), অমিত সাহা (ফ্যান্সি বুটিকে মন্দার মালিক), উদয় কুমার শাও (এসএস হগ মার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি টাকা (দৈনিক লোকসান), ৫ হাজার দোকান (ব্যবসা লোকসান), ৬০% (বাংলাদেশি ক্রেতাদের অবদান), ১ হাজার ৫০০ দোকান (বাংলাদেশি ক্রেতাদের নিয়মিত আসা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!