📌 ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আর আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাগুলোকে উল্লেখ করে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান সম্ভব। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুদ্ধবিরতি চাইছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আর আস্থা রাখেন না বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার ভিত্তি হারিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাগুলো তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ বাতিল করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকাকালীন এই কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আর আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই’
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং অঞ্চলব্যাপী যুদ্ধবিরতি চাইছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, বলেছেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবেন না
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে, ষষ্ঠ দিনে প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে
- 📌 ইরান ইসরায়েলের সাথে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন
- 📌 পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘ইরান ২০০ বছর ধরে কোনো দেশে হামলা চালায়নি’
📰 বিস্তারিত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটাও আমরা জানি না’। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে উভয় পক্ষের সম্মত বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ তুলে নেবে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আনুমানিক এক হাজার কোটি ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানের দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের সামনে সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে’।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান ২০০ বছর ধরে কোনো দেশে হামলা চালায়নি। ইরানের শাসনব্যবস্থা “কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়বে”—এমন ধারণা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে’।
"যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আর তাদের সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটাও আমরা জানি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ অধিবেশন), ওয়াশিংটন (হোয়াইট হাউস), তেহরান (ইরান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুদ পেজেশকিয়ান (ইরানের প্রেসিডেন্ট), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), আব্বাস আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ বছর, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১০০০ কোটি ডলার (জব্দ সম্পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!