📌 মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গত বৃহস্পতিবার লুটপাট ও ধ্বংসের পরও ধ্বংসস্তূপের পাশে শিশুদের টিকা দেওয়া চলছে। স্থানীয়রা দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন গত বৃহস্পতিবার লুটপাট ও ধ্বংসের পরও স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রেখেছে। ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ীভাবে বসেই শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে লুটপাট ও ধ্বংসের শিকার হয়।
- 📌 ২০০ থেকে ২৫০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং কেন্দ্রের মূল ভবন গুঁড়িয়ে দেয়।
- 📌 হামলার পর কেন্দ্রের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ধ্বংসস্তূপের পাশে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের টিকা দিচ্ছেন।
- 📌 ১৯৭৪ সাল থেকে এই কেন্দ্রটি দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছিল।
- 📌 নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছে। সরকার দ্রুত সংস্কার করে সেবা নিশ্চিত করুক।’
- 📌 ডা. নাসরিন আখতার বলেন, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী লুট হওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছেন না।
📰 বিস্তারিত
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মূল ফটক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও, ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের টিকা দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবা ছোটবেলায় আমাকেও এখান থেকে টিকা দিয়েছিলেন। পরে আমার বড় ছেলেকেও আমি এখান থেকে টিকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।’
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইয়ের সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়।
"আমার বাবা ছোটবেলায় আমাকেও এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে আমার বড় ছেলেকেও আমি এখান থেকে টিকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শুনিনি এটি অন্য কারও জমি। আমরা চাই, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা পাক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. নাসরিন আখতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০-২৫০ জন দুর্বৃত্ত, ৫০ বছর, ২৭ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!