📌 ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চারশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ জীবনধারণের জন্য হিমশিম খাচ্ছেন। কর্মসংস্থান হারিয়ে বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইরানের অর্থনীতি এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে। কয়েক মাসের সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ইরানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চারশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের কাছে এখন টিকে থাকাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানে গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চারশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 রান্নার তেলের দাম প্রায় চারশ শতাংশ বেড়ে প্রতি ৮১০ গ্রামে প্রায় ৭৮ ডলারে উঠেছে।
- 📌 এক কেজি মাংসের দাম উঠেছে ১৫ ডলার পর্যন্ত।
- 📌 ইরানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন ৮০ শতাংশের বেশি।
- 📌 দেশটিতে জুনের শুরুতে বেকারত্বের হার চার বছরের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
- 📌 ইরানি রিয়ালের দর কমে এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ইরানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চারশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের কাছে এখন টিকে থাকাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে কাজ করা ৩৮ বছর বয়সী রেজা জানান, স্থানীয় মুদ্রায় আয় করলেও তাঁদের খরচ যেন ডলারে হিসাব হয়। ইরানি রিয়ালের দরও ব্যাপকভাবে কমেছে। সংঘাত শুরুর আগে এক ডলারের বিপরীতে যেখানে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজারে উঠে গেছে। তিনি আরও বলেন, অনেক বন্ধু ও সহকর্মী সংসার চালাতে অন্তত দুটি চাকরি করছেন। তাঁর বড় ভাই দিনের বেলা গুদামে কাজ করেন, সন্ধ্যার পর মধ্যরাত পর্যন্ত রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। চার সদস্যের পরিবারের খাবার ও বাড়িভাড়া জোগাতেই এই অতিরিক্ত শ্রম।
রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে রান্নার তেলের দাম প্রায় চারশ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে ৮১০ গ্রাম রান্নার তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭৮ ডলারের সমান মূল্যে। এক কেজি মাংসের দাম উঠেছে ১৫ ডলার পর্যন্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ৮০ শতাংশের বেশি বার্ষিক মূল্যস্ফীতি।
"আমি এখন সারভাইভাল মোডে আছি। বিদেশি মুদ্রায় আয় করায় একসময় মূল্যস্ফীতির ধাক্কা কিছুটা সামলাতে পারতাম। কিন্তু এখন বাজার-সদাইয়ের পেছনেই আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফলে নতুন ফোন কেনা, বাইরে খাওয়া কিংবা বই কেনার মতো বিষয়গুলোও আমার কাছে বিলাসিতা হয়ে গেছে।"
ইরানি সংবাদপত্র ‘দুনিয়া-ই একতেসাদ’-এর হিসাবে, জুনের শুরুতে দেশটিতে বেকারত্ব বেড়ে চার বছরের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। চিকিৎসার খরচও অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তেহরানের ২৭ বছর বয়সী চিকিৎসাকর্মী সামিরা জানান, কেউ কেউ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বদলে চিকিৎসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, তেহরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজা, সামিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চারশ শতাংশ, ৮১০ গ্রাম, ৭৮ ডলার, ১৫ ডলার, ৮০ শতাংশ, ৯ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!