📌 ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টির বেশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্তে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাবও তুলেছেন তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের সাশ্রয় হবে ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টির বেশি অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের গত তিন দশকের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বলে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টির বেশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
- 📌 রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- 📌 প্রেসিডেন্ট জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তা ১ হাজার ৭৪টি।
- 📌 ইতিমধ্যে ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০০-র মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।
- 📌 পরিচালনা ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ সাশ্রয় করা।
📰 বিস্তারিত
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, দেশে এমন অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনলেও তা আড়াল করতে কাগজে-কলমে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়তো ৩০০ বা ৪০০টি হবে। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি।’ তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না রেখে নিজেদের মতো পরিচালিত হচ্ছিল।
গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় ‘দানান্তারা’ নামে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে ইন্দোনেশিয়া। ওই তহবিলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়েই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিপুল এই সংখ্যা প্রকাশ পায়। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সব সময় লোকসান করছে, অথচ মুনাফা দেখাচ্ছে। এসব মুনাফা আসলে কাগজে-কলমে তৈরি করা।’
রাষ্ট্রীয় খাতের এই সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ৩০০-র মধ্যে নামিয়ে আনা হবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ৭৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব। কেবল সেগুলোই রাখা হবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনশীল।’ তিনি এই উদ্যোগকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন।
‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়তো ৩০০ বা ৪০০টি হবে। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি।’
ইন্দোনেশিয়া সরকারের হিসাব মতে, পরিচালনা পর্ষদের বেতন-ভাতা হ্রাস, ভবন ও গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ কাটছাঁট করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে সরকারের লক্ষ্য হলো এই সাশ্রয়ের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর ওপরে নিয়ে যাওয়া।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইন্দোনেশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫০, ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ, ১ হাজার ৭৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!