📌 চীনা বংশোদ্ভূত বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানের। তিনি পাকিস্তানকে ‘দুর্বল ও বিশৃঙ্খল’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে
ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা কোন দেশের সবচেয়ে বেশি—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত দেখা দিলে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানের। সম্প্রতি ভারতীয় ইউটিউবার রাজ শামানির পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানের বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন
- 📌 জিয়াং বলেন, তাঁর জীবদ্দশায় কোনো দেশই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি
- 📌 পাকিস্তানকে ‘অত্যন্ত দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন জিয়াং
- 📌 ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে প্রায় ১৯০টি ওয়ারহেড, পাকিস্তানের রয়েছে আনুমানিক ১৭০টি
- 📌 ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি অনুসরণ করলেও পাকিস্তান তা করেনি বলে উল্লেখ করেন বিশ্লেষক
📰 বিস্তারিত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পর থেকে আর কোনো যুদ্ধে এ অস্ত্র ব্যবহৃত হয়নি। তবে বর্তমান সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ও ভয়াবহতা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা কোন দেশের সবচেয়ে বেশি—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েচিন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত দেখা দিলে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানের।
গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় জিয়াং বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন না যে তাঁদের জীবদ্দশায় কোনো দেশই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। কারণ এই অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার মানসিকতা রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যদি তাঁকে অনুমান করতেই হয়, তাহলে ভারত বা পাকিস্তানই প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা দেশটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
জিয়াং পাকিস্তানকে ‘অত্যন্ত দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও একটি দুর্নীতিগ্রস্ত’ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর আশঙ্কা, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশটির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা হয়তো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র থাকা দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ পাকিস্তান। জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা হয়তো তাদের নাও থাকতে পারে।’
‘যদি আমাকে অনুমান করতেই হয়, কোন দেশ প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, তাহলে বলব ভারত বা পাকিস্তান। সম্ভবত পাকিস্তান।’
📰 বিস্তারিত
জিয়াংয়ের বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির পার্থক্য। তাঁর মতে, দুই দেশের পারমাণবিক কৌশল এক নয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো এ নীতি গ্রহণ করেনি। বরং ভারতের তুলনামূলক বড় প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে প্রায় ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ১২টি ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানের কাছে রয়েছে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। তবে পাকিস্তান কোনো পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেনি বলে এসআইপিআরআই-এর তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিয়াংয়ের মতে, প্রচলিত সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে ভারত এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান তুলনামূলক বেশি চাপে থাকে। তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পাকিস্তানের তা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বিশ্লেষণ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিয়াং শুয়েচিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ভারতের পারমাণবিক ওয়ারহেড ১৯০টি, পাকিস্তানের ১৭০টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!