📌 ভারতের তরুণদের নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদে ‘আজাদি’ স্লোগান হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার প্রতীক। দিল্লির জন্তর মন্তর থেকে মুম্বাই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে। দশ বছর আগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া এই স্লোগান এখন তরুণদের প্রতিবাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারকে
নতুন দিল্লি, ভারত — ভারতের রাজধানীর জন্তর মন্তরের কাছে গ্রাফিতিতে ভরা দেয়ালগুলো মুছে ফেলতে কর্মীরা ভোর থেকেই কাজ শুরু করেন। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষা ফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ঘটে। ককরোচ জান্তা পার্টির নেতৃত্বে পরিচালিত সেই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা দেয়ালে লেখেন, "#২০২৬ জেনারেশন জেড বিপ্লব!!!"। একজন তরুণ গাছে উঠে শক্তিশালী লাউডস্পিকারের মাধ্যমে একটি গান বাজাতে থাকেন। গানের কথাগুলো ছিলো, "আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও!"। জনতা সেই স্লোগানকে অনুসরণ করে হাত তুলে সমর্থন জানায়।
‘আজাদি’ শব্দটির অর্থ ইংরেজিতে ‘স্বাধীনতা’। বলিউড চলচ্চিত্র ‘গল্লি বয়’ থেকে নেওয়া এই গানটি বছরের পর বছর ধরে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিবাদের ভাষা। সংসদ সড়কে পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের মারধরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই গানটি নতুন জীবন লাভ করে। দিল্লির পাশাপাশি জয়পুর, লখনউ এবং মুম্বাইতেও এই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর জন্তর মন্তরের প্রতিবাদ এলাকা থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলতে প্রশাসনের উদ্যোগ
- 📌 ‘আজাদি’ স্লোগানটি ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা এক দশক আগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল
- 📌 ২০১৬ সালে জেএনইউতে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের এবং শিক্ষার্থী নেতাদের গ্রেপ্তার
- 📌 জেএনইউর শিক্ষার্থী নেতা উমর খালিদসহ অনেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কয়েক সপ্তাহ পর জামিন লাভ করেন
- 📌 জেএনইউ ভারতের বামপন্থী রাজনীতির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যা হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের বিরোধিতার প্রধান লক্ষ্যবস্তু
📰 বিস্তারিত
২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) সাধারণ একটি সন্ধ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়টির রাজনৈতিক সক্রিয়তার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সেই দিন একটি সভা আয়োজিত হয়েছিল ভারতের ফাঁসির বিধান নিয়ে আলোচনা করতে। আলোচনায় কাশ্মীরের একজন ব্যক্তির ঘটনা উঠে আসে, যিনি ২০০১ সালে ভারতের সংসদে সশস্ত্র হামলার অভিযোগে ফাঁসির মুখোমুখি হন। বানোঞ্জয়লক্ষ্মী লাহিড়ী নামে জেএনইউর শিক্ষার্থী এবং উমর খালিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল জাজিরাকে জানান, সেই সভার উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ আলোচনা।
কিন্তু ভারতীয় টিভি মিডিয়া চ্যানেলগুলো সরকারের প্রতি অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা সেই সভার ভিডিও বারবার প্রচার করে শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। এমনকি কিছু চ্যানেল ভুয়া ক্লিপও প্রচার করে। লাহিড়ী বলেন, "তীব্র মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এটি ছিল একটি লক্ষ্যবস্তু অভিযান: করদাতাদের টাকায় শিক্ষার্থীরা বসবাস করছে বলে প্রচার চালানো হয়।" কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার শুরু হয়। উমর খালিদসহ অনেকে কয়েক সপ্তাহ পর জামিন লাভ করেন।
জেএনইউ ভারতের বামপন্থী রাজনীতির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের অধীনে এটি সরকারবিরোধী রাজনীতির প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও একই সময়ে সরকারবিরোধী রাজনীতি প্রবল ছিল। দলিত শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ তীব্র আকার ধারণ করে।
"#২০২৬ জেনারেশন জেড বিপ্লব!!!"
"আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও! আজাদি, আমাকে স্বাধীনতা দাও!"
"উমর, শরজীল, গুলফিশা ছিলেন তোমাদের আগে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নতুন দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ধর্মেন্দ্র প্রধান, উমর খালিদ, বানোঞ্জয়লক্ষ্মী লাহিড়ী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (প্রতিবাদের শহর), ২৬ (জুলাই মাসের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!