📌 ভারতের মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের তিন সদস্য পাহাড়ের ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানসিক সংকটের জের ধরে তরুণের আত্মহত্যার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডিতে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অবস্থিত ‘কোঢ্যা পাহাড়’ (খাওড়িয়া ডোঙ্গার)-এর ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য—১৮ বছর বয়সী কুণাল চাঁদওয়াড়ে, তাঁর বাবা মুরালিধরন চাঁদওয়াড়ে এবং মা সংগীতা চাঁদওয়াড়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অবস্থিত ‘কোঢ্যা পাহাড়’ থেকে ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে তিন সদস্যের মৃত্যু
- 📌 ঘটনার সময় ছিল শুক্রবার সকাল ১০টা, যেখানে তরুণ কুণালকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর বাবা-মা খাদের কিনারে উপস্থিত হন
- 📌 পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতা সত্ত্বেও ভারসাম্য হারিয়ে তিনজনই খাদে পড়ে যান
- 📌 কুণালের শেষ কথা ছিল, ‘আমার কথা কেউ শোনে না। আমার বেঁচে থাকার আর কোনো ইচ্ছা নেই।’
- 📌 ঘটনার আগের দিন কুণালের মা সংগীতা তাঁর ইউটিউব ভিডিওতে পরিবারের মানসিক দূরত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে অবস্থিত ‘কোঢ্যা পাহাড়’-এর খাদের কিনারে নিজেকে নিয়ে যান ১৮ বছর বয়সী তরুণ কুণাল চাঁদওয়াড়ে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা তরুণকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি খাদের ঢালে দাঁড়িয়ে থাকেন। এমনকি কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁকে আইফোন কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।
একপর্যায়ে কুণালের বাবা মুরালিধরন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান এবং হাত ধরে টেনে নিরাপদ স্থানে আনতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সময় ভারসাম্য হারিয়ে দুজনই ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানকে খাদে পড়ে যেতে দেখে কুণালের মা সংগীতাও খাদের কিনারে ঝাঁপ দেন। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে কুণাল এক বছর আগেও একই স্থানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তাঁকে উদ্ধার করে মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুরালিধরন ও সংগীতার সংসারে ছয় বছর আগে বড় ছেলের মৃত্যু হয়, যার ফলে তাঁদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং মুরালিধরন দীর্ঘদিন আলাদা বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাড়িতে ফেরেন এবং কুণালের আইফোনের কিস্তির টাকা নিয়ে বিবাদের সৃষ্টি হয়।
"আমার কথা কেউ শোনে না। আমার বেঁচে থাকার আর কোনো ইচ্ছা নেই। জীবনের সমস্যার কোনো সমাধান নেই।"
ঘটনার আগের দিন কুণালের মা সংগীতা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তিনি পরিবারের মানসিক দূরত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলেছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা মা ও ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খাদের ঢালে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে কাঁদতে কাঁদতে কাকুতি-মিনতি করছেন মা সংগীতা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ছত্রপতি সম্ভাজীনগর, মহারাষ্ট্র, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুণাল চাঁদওয়াড়ে, মুরালিধরন চাঁদওয়াড়ে, সংগীতা চাঁদওয়াড়ে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ ফুট, ১৮ বছর, সকাল ১০টা, ৩ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!