📌 বগুড়ার বাঙ্গালী নদীতে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমর পাথালিয়া ও সুঘাট গ্রামে বাঙ্গালী নদীর দুই পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্ষার পানিতে ভরে যাওয়া নদীতে রঙিন সাজে ছুটছে একাধিক নৌকা। ঢাকের তালে তালে গীতিকারদের সারিগান আর মাঝিমাল্লাদের বইঠার ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে নদীর দুই তীর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়ার বাঙ্গালী নদীতে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা চলছে
- 📌 সুঘাট ইউনিয়নের চোমর পাথালিয়া ও সুঘাট গ্রামে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম
- 📌 গ্রামীণ মেলায় প্রায় ৪০০ দোকানি বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন
- 📌 গত শুক্রবার উদ্বোধন হওয়া এই আয়োজন চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত
- 📌 আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, এবার ১৩টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে
- 📌 স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে বর্ষার পর এই গ্রামীণ সংস্কৃতির আয়োজন হয়ে আসছে
📰 বিস্তারিত
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমর পাথালিয়া ও সুঘাট গ্রামে বাঙ্গালী নদীর দুই পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নদীর দুই তীরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে প্রতিদিন কয়েক হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু সমবেত হন।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নৌকার গলুইয়ের সামনে বসানো ঢাকের তালে তালে সারিগান গেয়ে মাঝিমাল্লারা বইঠা টেনে নৌকা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নদীর দুই পাড়ের দর্শকরা হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করছেন। আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, গত শুক্রবার বিকেলে এই আয়োজনের উদ্বোধন হয়। আগামী বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা চলবে।
গ্রামীণ মেলায় প্রায় ৪০০ দোকানি বিভিন্ন ধরনের খাবার, কাঠের আসবাব, খেলনা ও শিশুদের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় মির্জাপুর ইউনিয়নের ভাদরা গ্রামের আলতাফ হোসেন ও সুঘাট ইউনিয়নের সাঁতার গ্রামের রজব আলীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, নৌকাবাইচ গ্রামীণ মানুষের জন্য আনন্দের বড় উপলক্ষ। ঢাকের শব্দ ও সারিগানের সুরে নদীর দুই পাড়ের মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষার পানি কমে যাওয়ার পর প্রতিবছর বাঙ্গালী নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর, খানপুরের বড়ইতলী, সুঘাটের কল্যাণী, চোমর পাথালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন হয়ে আসছে। আশপাশের ছয় থেকে সাতটি গ্রামের মানুষ মিলে নৌকাবাইচের আয়োজন করে। ফলে প্রতিবছর নৌকাবাইচকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। এটি এখন গ্রামের মানুষের আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
"প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আমরা এই গ্রামীণ বিনোদনের আয়োজন করে আসছি। এবার ১৩টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পাশাপাশি অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকার প্রতিযোগীদের সম্মাননা দেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চোমর পাথালিয়া ও সুঘাট গ্রাম, বাঙ্গালী নদী, শেরপুর উপজেলা, বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হারুন অর রশিদ (আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক), আলতাফ হোসেন, রজব আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০ (দোকানি), ৩০ (বছর), ১৩ (টি নৌকা), ৪৫ (ঝরনা রানী), ৫০ (রেখা রানী), ১০০ (আয়োজক সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!