📌 গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া মোহাম্মদের পরিবার দাফনের স্থান না পেয়ে তাঁকে দাদার কবরেই সমাহিত করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় কবরস্থানগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে
গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া এক ব্যক্তির পরিবার তাঁর শেষ বিদায়ের জন্য স্থান খুঁজে না পেয়ে তাঁকে দাদার কবরেই সমাহিত করতে বাধ্য হয়েছে। ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি তাঁর বাবা মোহাম্মদকে (৪০) ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে হারিয়েছেন। মোহাম্মদ গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ (৪০)
- 📌 গাজার কবরস্থানগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় দাফনের স্থান না পেয়ে দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হন ওমর
- 📌 যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন
- 📌 গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন
- 📌 গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি তাঁর বাবা মোহাম্মদকে হারিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে। মোহাম্মদ গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ জুন ইসরায়েলিদের নির্ধারিত সামরিক এলাকা ইয়েলো লাইনের পাশে ফুটপাতের একটি দোকানে চা ও কফি বিক্রি করছিলেন। আচমকা একটি বুলেট এসে তাঁর ঘাড়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মারা যান।
ওমর তাঁর বাবার মরদেহ দাফনের জন্য জায়তুন করবস্থানে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, একের পর এক মরদেহে ঠাসা পুরো কবরস্থান। কোথাও একটুকরা জায়গা ফাঁকা নেই। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ কবর শুধু একটি পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। আর সেই পাথরে নিহত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু কবর আর কবর। চারদিকে বালুর স্তূপ, আর তার নিচেই দাফন করা হয়েছে মানুষের মরদেহ।’ তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের আগে যেভাবে একটি কবর তৈরি বা প্রস্তুত করা হতো তার ছিটেফোঁটাও এখন নেই। একটি কবরের ওপর শুধু পাথরের টুকরা রেখে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর এক টুকরা কাগজে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় লিখে রাখা হয়েছে।
বর্তমানে গাজায় একটি কবর প্রস্তুত করতে প্রায় ৫০০ শেকেল (১৬৭ মার্কিন ডলার) খরচ হয়। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। তখন পরিবারগুলো বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এবং অস্থায়ী কবর থেকে তাঁদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে কবরস্থানে নিয়ে দাফন করার সুযোগ পান।
ওমর বলেন, ‘সেখানে নতুন কোনো কবরের জায়গা ছিল না। তাই দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হয়েছি।’ গাজায় সব ধরনের নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া এবং অনবরত ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকির কারণে যুদ্ধের সময় নিহত হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনেক পরিবার তাঁদের স্বজনদের মরদেহ বাড়িঘরের আঙিনায়, তাঁবুর পাশে, উদ্বাস্তু শিবিরের মাঠে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন।
‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু কবর আর কবর। চারদিকে বালুর স্তূপ, আর তার নিচেই দাফন করা হয়েছে মানুষের মরদেহ।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওমর আল-সাওহি, মোহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর, ৪০ বছর, ১০ জুন, ৫০০ শেকেল, ১৬৭ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি, ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!