📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। একই সময়ে ওমানে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেন। হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু সৌদি জাহাজে হামলা করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওমানে গোপন বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এই বৈঠক সম্পর্কে কোনো সরকারি ঘোষণা না দেওয়া সত্ত্বেও পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করেছে বলে জানা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেন: ‘আমরা মার্কিন জাহাজে হামলা করব না, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি পূরণ করব’। তবে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
- 📌 মাসকাটে বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং হুতির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। অন্য সূত্রে জানা যায়, হুতির আরেক নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চান। কিন্তু ওয়াশিংটন রিয়াদকে বলেছে, তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না।
- 📌 লোহিত সাগরে হুতিরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেন ইয়েমেনের পুরো উপকূলে, যার মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দর মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে আমরা মন্তব্য করব না’। তবে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো মার্কিন মূল স্বার্থের অংশ।
📰 বিস্তারিত
গত সপ্তাহান্তে ওমানে হুতিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে কোনো সরকারি ঘোষণা না দেওয়া সত্ত্বেও পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করেছে বলে জানা যায়। বৈঠকে হুতিদের প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমরা মার্কিন জাহাজে হামলার কোনো ইচ্ছা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিও পূরণ করব’। তবে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং হুতির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। অন্য সূত্রে জানা যায়, হুতির আরেক নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না’। তবে তিনি বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের অংশ।
গত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি অন্তর্ভুক্ত। এই প্রণালি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছে। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। কিন্তু সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরগুলো অবরোধ করার ঘোষণা দিলে জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। পাল্টাপাল্টি এ পদক্ষেপে গত জুলাইয়ে আবার লড়াই শুরু হয়।
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চান। ওয়াশিংটন রিয়াদকে বলেছে, তারা সরাসরি এ যুদ্ধে জড়াবে না। ওমানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও হুতি নেতা আবদুস সালামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
“বৈঠকের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। তবে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের অংশ।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওমান (মাসকাট), নিউইয়র্ক, লোহিত সাগর, ইয়েমেন (মোখা, বাব আল-মানদেব প্রণালি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, আবদেলমালিক আল-আজিরি, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৫ (যুদ্ধবিরতি বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!