📌 নেপাল ও তিব্বতে ঘটা প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানান, হিমবাহধসের আগে অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণতা ছিল এবং ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
নেপাল ও তিব্বতে ঘটা প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকরা জানান, জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে হিমবাহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং এর ধসের ফলে ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান এবং বর্তমানে পাঁচ হাজার মানুষেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন হিমবাহের দুর্বলতা সৃষ্টি করে: গবেষকরা জানান, হিমবাহধসের আগে অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণতা ছিল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
- 📌 ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত: লাংটাং লিরুং পর্বত থেকে হিমবাহধসের ফলে ঘটা বন্যায় প্রাণ হারানোর সংখ্যা এতটাই বেশি যে, এখনো পাঁচ হাজার মানুষেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছে।
- 📌 ১১ কোটি ঘনমিটার বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে: হিমবাহধসের ফলে প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে, যা নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে।
- 📌 গতিতে ১৭৭ কিলোমিটার বন্যার স্রোত: বন্যার পানি ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটার গতিতে নদীপথে নেমে আসে, পরিবার, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন পাহাড়ি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে: গবেষকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে এবং এই ধসের সম্ভাব্য কারণগুলির ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
📰 বিস্তারিত
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেছেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।’ গবেষকদের মতে, হিমবাহধসের আগে ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া ছিল। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে, যা নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ভাটির জনপদগুলোয় আঘাত হানে সেই বন্যা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এত বড় শিলাধসের ঘটনা বিরল। আনুমানিক হিসাবে এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরে এ আকারের একটি ঘটনা ঘটতে পারে।’ অটো ও তাঁর দলের গবেষণা দেখিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন পাহাড়ি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তন উঁচু পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। এই ধসের সম্ভাব্য অনেক কারণের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।’
গবেষণায় আরও জানা গেছে, যে অঞ্চলে ধসটি ঘটেছে, সেখানে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয়ভাবে ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাস। হিমবাহধসের আগের দিনগুলোয় তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
"হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল ও তিব্বত (লাংটাং লিরুং পর্বত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো (ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ কোটি ঘনমিটার বরফ, ১৭৭ কিলোমিটার/ঘন্টা বন্যার গতি, ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!