📌 গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাশুড়ি মাহমুদা বেগমের হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, জরিমানার অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড যোগ করা হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় শাশুড়ি হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, জরিমানার অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড যোগ করা হয়েছে। এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগদহ পুলপাড়া গ্রামের ফইম উদ্দিনের ছেলে বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় শাশুড়ি মাহমুদা বেগমের হত্যার দায়ে বিরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে
- 📌 আদালত জরিমানা হিসেবে ১০ হাজার টাকা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড নির্ধারণ করেছে
- 📌 ২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে মাহমুদা বেগম ও তার মেয়ে দুলালী বেগমকে বিরাজ আলী ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে, যার ফলে শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়
- 📌 মাহমুদা বেগমকে আহত অবস্থায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, সেখানে তিনি পরদিন মারা যান
- 📌 মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন
📰 বিস্তারিত
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগদহ পুলপাড়া গ্রামের ফইম উদ্দিনের ছেলে বিরাজ আলী (৫০) শাশুড়ি মাহমুদা বেগমের হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। বিচারক মোল্যা সাইফুল আলম বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদালতের রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত বিরাজ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে বিরাজ আলী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চক শিবপুর গ্রামের দুদু মিয়া ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে দুলালী বেগমের বিয়ে হয়। তবে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২০০৭ সালে দুলালী বেগম তার দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। মাহমুদা বেগম গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুলালী বেগমও জীবিকার প্রয়োজনে গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে কাজ নেন।
২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে কাজ শেষে মা-মেয়ে দুজন একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিরাজ আলী ও তার সহযোগীরা আগে থেকে ওত পেতে থাকা অবস্থায় তাদের পথরোধ করেন। দুলালী বেগমকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। মাহমুদা বেগম বাধা দিলে বিরাজ আলী তাঁর শাশুড়ির বুকে ও পাঁজরে ছুরিকাঘাত করেন। পরে মাহমুদা বেগমকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, সেখানে তিনি পরদিন মারা যান।
পরদিন ১৫ মে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী মাসুদুর রহমান বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর আদালত রায় দিয়েছে।
"মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিরাজ আলী (৫০), মোল্যা সাইফুল আলম, মাসুদুর রহমান বিশ্বাস, গোলাম মোস্তফা, শহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড (অনাদায়ে), ১৪ মে ২০০৭, ১৫ মে ২০০৭, ১০ আগস্ট ২০০৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!