📌 ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার চাপে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসা বারান্দা, মেঝে ও করিডরে চলছে। এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩৫০ পদ শূন্য থাকায় জনবল সীমাবদ্ধতা রয়েছে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার চাপে রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দা, মেঝে ও করিডরে। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত শয্যা ও অবকাঠামোর কারণে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহ মেডিকেলে এক হাজার শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগী ভর্তি — শয্যার চাপে চিকিৎসা বারান্দা-মেঝেতে চলছে
- 📌 শিশু ওয়ার্ডের ৬০ শয্যার মধ্যে গতকাল ৩৫০ জন রোগী ভর্তি — মেঝে ও লিফটের সামনে প্লাস্টিকের মাদুরে শিশুদের চিকিৎসা চলছে
- 📌 মেডিসিন বিভাগের ১৭০ শয্যার মধ্যে ৯৮৮ জন রোগী — অনুমোদিত শয্যার প্রায় ছয় গুণ রোগী ভর্তি
- 📌 ৩৫০ পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের জনবল সীমাবদ্ধ — চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ঘাটতি
- 📌 টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলার রোগীরা ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি ও বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা চলছে প্লাস্টিকের মাদুরে। টাঙ্গাইলের মধুপুরের ভ্যানচালক আবুল হোসেন (৬৫) সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি হলেও কোনো শয্যা পাননি। তিনি ও তার স্ত্রী সমলা আক্তার করিডরে মাদুরে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সমলা আক্তার বলেন, ‘কোথাও জায়গা নাই, এমন অবস্থা। স্বামীর চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সিট পাওয়ার উপায় নেই।’
শিশু ওয়ার্ডের ৬০ শয্যার মধ্যে গতকাল দুপুরে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ওয়ার্ডের বারান্দা, মেঝে ও লিফটের সামনে রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। ত্রিশালের চকরামপুরের সেলিনা আক্তার তার এক বছর বয়সী মেয়ে আফরাকে মেঝেতে পাতা প্লাস্টিকের মাদুরে ঘুমিয়ে দেখেছেন। সেলিনা বলেন, ‘জ্বর ও ঠান্ডা-কাশির কারণে মেয়েকে ভর্তি করাইছিলাম। এইখানে পা ফেলারও জায়গা নাই, কিন্তু আমরা আর যাইবো না।’
মেডিসিন বিভাগের ১৭০ শয্যার মধ্যে গতকাল ৯৮৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন — অনুমোদিত শয্যার প্রায় ছয় গুণ। সার্জারি বিভাগের ১৫০ শয্যার মধ্যে ৪৮৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। অন্যান্য বিভাগেও রোগীর সংখ্যা শয্যার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সর্বোচ্চ ১২ সেপ্টেম্বর ৪ হাজার ২৯৭ জন এবং সর্বনিম্ন ১৬ সেপ্টেম্বর ৩ হাজার ৮১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের যে পরিমাণ রোগী দেখার কথা, বাস্তবে তাঁকে অনেক বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে রোগী ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
"রোগী বেশি থাকায় অনেক চাপ সামলাতে হয়। মানুষ দ্রুত সেবা পেতে চায়; কিন্তু আমরা যে অতিরিক্ত চাপ সামলাই, সেটা দেখে না।"
হাসপাতালের জনবল সীমাবদ্ধতার কারণে ২০১৯ সালে চালু হওয়া সিটি স্ক্যান মেশিনটি গত মে মাসে বিকল হয়ে গেছে। আগে এটি দিয়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পরীক্ষা করা হতো, কিন্তু এখন রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল হোসেন (৬৫), সমলা আক্তার, সেলিনা আক্তার, মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার (দৈনিক ভর্তি), ৩৫০ (শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি), ৯৮৮ (মেডিসিন বিভাগে ভর্তি), ৩৫০ (পদ শূন্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!