📌 হেগের বিশেষ আদালতে কসোভো যুদ্ধের সময় কেএলএর চার সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ থেকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারকদের মতে, তারা ৯৬টি হত্যাকাণ্ড, ৩৮৫ জনকে বেআইনি আটক এবং ৩০৩ জনকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন
হেগের বিশেষ আদালতে কসোভো যুদ্ধের সময় কেএলএর (কসোভো লিবারেশন আর্মি) চার সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ থেকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) আদালতের রায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ৫৮ বছর বয়সী। এছাড়াও কেএলএর তিন সাবেক নেতা—কাদরি ভেসেলি, রেক্সহেপ সেলিমি ও ইয়াকুপ ক্রাসনিচিকে যথাক্রমে ১৮, ১৩ এবং ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাশিম থাচি (৫৮) ও তিন সাবেক কমান্ডারকে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ থেকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- 📌 আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তারা ৯৬টি হত্যাকাণ্ড, ৩৮৫ জনকে বেআইনি আটক এবং ৩০৩ জনকে নির্যাতনসহ নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
- 📌 বিচারক চার্লস স্মিথ বলেছেন, থাচি তাঁর নেতৃত্ব ও প্রভাব ব্যবহার করে এসব অপরাধকে উৎসাহিত করেছিলেন।
- 📌 থাচির রাজনৈতিক দল পিডিকে রায়কে ‘মহা অবিচার’ বলে অভিহিত করেছে এবং অভিযোগের নথিগুলোকে মনগড়া বলে দাবি করেছে।
- 📌 কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ বড় পর্দায় রায়ের ঘোষণা দেখেছেন এবং ‘ইউসিকে’ স্লোগান দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
১৯৯৮-৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধের সময় কেএলএর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ে হাশিম থাচিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারক চার্লস স্মিথের নেতৃত্বে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, থাচি তাঁর অবস্থান, নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও প্রভাব ব্যবহার করে এসব অপরাধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারকদের মতে, এসব অপরাধ বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হামলার অংশ ছিল—প্রমাণের অভাবের কারণে এগুলো খারিজ করা হয়েছে।
থাচির বিরুদ্ধে মামলাটি কয়েক বছর ধরে চলেছে। কসোভোয় এ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতাও ছিল। থাচির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কেএলএ ছিল পুরোপুরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী, তাই স্থানীয় ইউনিটগুলোর অপরাধের জন্য তাঁকে দায়ী করা যায় না। তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন, এই বিচার কেএলএর স্বাধীনতার লক্ষ্য বা যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে নয়; বরং যুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্দিষ্ট অপরাধের দায় নির্ধারণের জন্য।
১৯৯৮-৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই জাতিগত আলবেনীয়। ন্যাটোর ৭৮ দিনের বিমান হামলার পর যুদ্ধের অবসান ঘটে। সংঘাতের সময় প্রায় ১০ লাখ জাতিগত আলবেনীয় কসোভোভান নিজ ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন।
"চার সাবেক কমান্ডার ৯৬টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ৩৮৫ জনকে বেআইনিভাবে আটক, ৩০৩ জনকে নির্যাতন এবং প্রায় ৫০ জনের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনায় দায়ী।"
থাচি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। তিনি যুদ্ধের সময় ‘কমান্ডার স্নেক’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং কেএলএর রাজনৈতিক শাখার অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং কসোভোর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে কসোভোর প্রেসিডেন্ট হন। তবে অভিযোগের মুখে প্রায় ছয় বছর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে দ্য হেগে বিচার মোকাবিলা করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেগ (নেদারল্যান্ডস), প্রিস্টিনা (কসোভো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাশিম থাচি, কাদরি ভেসেলি, রেক্সহেপ সেলিমি, ইয়াকুপ ক্রাসনিচি, বিচারক চার্লস স্মিথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (থাচির কারাদণ্ড), ১৮ বছর (ভেসেলির কারাদণ্ড), ১৩ বছর (সেলিমির কারাদণ্ড), ৯৬টি হত্যাকাণ্ড, ৩৮৫ জন বেআইনি আটক, ৩০৩ জন নির্যাতন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!