📌 কলকাতায় দুর্গাপূজার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং উত্তর ভারতের গণেশপূজা বাড়ছে। মৃৎশিল্পীরা বলছেন, থিম পূজার চাহিদা কমে গেছে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবের কারণে গণেশপূজা রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে। গত বছরের ৩০০ থেকে এবারে ৮০০-এরও বেশি গণেশপূজা হয়েছে
কলকাতায় দুর্গাপূজার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং উত্তর ও পশ্চিম ভারতের জনপ্রিয় দেবতা গণেশের পূজা বাড়ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই পরিবর্তনটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মৃৎশিল্পীরা জানিয়েছেন, থিম পূজার চাহিদা কমে গেছে এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে গণেশপূজা বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতায় গত বছর কুমারটুলিতে ৮ থেকে ৯ হাজার দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়েছিল, এবারে সংখ্যা সামান্য কমেছে
- 📌 গত বছর পশ্চিমবঙ্গে ৩০০ গণেশপূজা হয়েছিল, এবারে সংখ্যা বেড়ে ৮০০-এরও বেশি হয়েছে
- 📌 বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গণেশপূজা পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে পরিণত হয়েছে
- 📌 পুলিশের নির্দেশে কুমারটুলিতে প্রতিমার উচ্চতা সর্বোচ্চ ১১ ফুট রাখা হয়েছে
- 📌 বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য গণেশপূজার উদ্বোধন করেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূজা উদযাপন করছেন
📰 বিস্তারিত
কলকাতার কুমারটুলির মৃৎশিল্পী সমিতির সম্পাদক বাবু পাল জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার জন্য প্রতিমা বানানোর অর্ডার সামান্য কমেছে। তিনি বলেন, ‘থিম পূজার জন্য যে প্রতিমার অর্ডার আসত, তা প্রায় আসেইনি। পূজার উদ্যোক্তারা কিছুটা পুরোনো দিনের একচালা মায়ের মূর্তিতে ফিরে গিয়েছেন।’ বাবু পালের মতে, গত বছর কুমারটুলিতে ৮ থেকে ৯ হাজার প্রতিমা তৈরি হয়েছিল, এবারে সংখ্যা সামান্য কমেছে। তবে অন্যান্যবার তার আগের বছরের তুলনায় প্রতিমার বরাত বাড়ে, এবারে তা বাড়েনি।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় চিন্তাভাবনা পাল্টাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গণেশপূজা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিজেপির ক্ষমতায় আসা উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি প্রধানত উত্তর ভারতের দল এবং গণেশও উত্তর ভারতের দেবতা। হিন্দুধর্মমতে গণেশ দুর্গার পুত্রও বটে। তবে এখন এককভাবে গণেশের পূজার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এটা হচ্ছে বিজেপিকে কিছুটা খুশি করতে। কারণ, গণেশ ও বিজেপি উভয়ই উত্তর ভারতের প্রতিনিধি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য গণেশপূজার উদ্বোধন করেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূজা উদযাপন করছেন। বিজেপির ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র ‘যুগশঙ্খ’ জানিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পর গণেশপূজার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। গত দুই দিনে বিজেপির নেতা-নেত্রীরা পুরোদমে গণেশপূজায় অংশ নিয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্য রোববার গণেশপূজার উদ্বোধন করেন জ্যোতি নগর বন্ধু মহল ক্লাবে। এরপর লেক টাউন স্পোর্টিং ক্লাবে উদ্বোধন করেন তিনি।
দুর্গাপূজা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে মৃৎশিল্পী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলছেন, কুমারটুলিতে এ বছর প্রতিমার উচ্চতা সর্বোচ্চ ১১ ফুট রাখতে বলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটা পুরোনো সার্কুলার। পুলিশ আগেভাগেই কুমারটুলিতে এসে ১১ ফুটের বেশি উচ্চতার মূর্তি না বানানোর নির্দেশ দিয়েছে।
"তবে আমি এটা বলব না যে প্রতিমার অর্ডার অনেকটা কমে গেছে, যেমনটা পত্রপত্রিকায় দাবি করা হয়েছে। তবে সামান্য কিছু কমেছে। থিম পূজার জন্য যে প্রতিমার অর্ডার আসত, তা প্রায় আসেইনি। ওই থিম পূজাগুলোয় কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। পূজার উদ্যোক্তারা কিছুটা পুরোনো দিনের একচালা মায়ের মূর্তিতে ফিরে গিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বাবু পাল, শমীক ভট্টাচার্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮-৯ হাজার (দুর্গা প্রতিমা), ৩০০ (গত বছরের গণেশপূজা), ৮০০ (এবারের গণেশপূজা), ১১ ফুট (প্রতিমার উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!