📌 উত্তর আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষে পাকিস্তানের নৌচালনা ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ বলে দিল্লি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। সংঘর্ষে পাকিস্তানের জাহাজ পিএনএস হুনাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভারতীয় জাহাজে বড় ক্ষতি হয়নি।
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের নৌচালনা ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ বলে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার পরদিন বুধবার দিল্লির পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও লিখিত প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংঘর্ষের ঘটনা: উত্তর আরব সাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ও পাকিস্তানের পিএনএস হুনাইন (ইয়ারমুক শ্রেণির অফশোর টহল জাহাজ) সংঘর্ষে জড়িত। পাকিস্তানি জাহাজটি উচ্চ গতিতে এগিয়ে এসে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং ভারতীয় জাহাজের সাথে ধাক্কা দেয়।
- 📌 ভারতের প্রতিবাদ: সংঘর্ষের পর দিল্লি পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও প্রতিবাদপত্র হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- 📌 ক্ষতির বিবরণ: পাকিস্তানের জাহাজ পিএনএস হুনাইন সংঘর্ষে কিছু ক্ষতি পেয়েছে এবং নিজ বন্দরে ফিরে যায়। ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
- 📌 চুক্তি লঙ্ঘন: ভারতের দাবি, সংঘর্ষটি ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া ও কৌশলগত চলাচল চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন। অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
- 📌 পাকিস্তানের জবাব: ঘটনার পর থেকে পাকিস্তান সরকার বা নৌবাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেনি।
📰 বিস্তারিত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, সংঘর্ষের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচালনার পেশাদার মান লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলে নির্ধারিত দূরত্ব ও নৌচালনার পেশাদার মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংঘর্ষের পর এমইএর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব সামরিক ইউনিটকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা থেকে জানা যায়, উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটগুলো নজরদারি মিশনে মোতায়েন রয়েছে। একই অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি অবস্থান নতুন নয়, তবে সংঘর্ষের ঘটনা বিরল। এই সংঘর্ষ ২০১১ সালের জুন মাসে এডেন উপসাগরে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যখন পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ পিএনএস বাবর ও ভারতীয় ফ্রিগেট আইএনএস গোদাবরী সংঘর্ষে জড়িত হয়েছিল। ওই ঘটনায়ও ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
ভারতীয় কর্মকর্তারা সংঘর্ষটিকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে দেখেননি, বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলে নির্ধারিত দূরত্ব ও নৌচালনার পেশাদার মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
"পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব সামরিক ইউনিটকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর আরব সাগর (ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ নটিক্যাল মাইল (সংঘর্ষের দূরত্ব), ৩ নটিক্যাল মাইল (চুক্তিতে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!