📌 গাজায় যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটে সাধারণ একটি লাইটার এখন জীবনধারণের প্রধান উপকরণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে এক শেকেলে তিনটি লাইটার পাওয়া যেত, সেখানে এখন একটি লাইটারের দাম দাঁড়িয়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের মধ্যেও সাধারণ একটি লাইটার এখন হয়ে উঠেছে জীবনধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রান্না, রুটি তৈরি, পানি গরম করা কিংবা শিশুর জন্য দুধ গরম করা—সবকিছুর জন্য আগুন প্রয়োজন, আর সেই আগুন জ্বালাতে এখন লাইটারের বিকল্প নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় যুদ্ধের কারণে লাইটারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়, যা আগে ছিল মাত্র এক শেকেলে তিনটি লাইটার
- 📌 ৪৬ বছর বয়সী রাবাব দেইফাল্লাহর কাছে পুরোনো একটি লাইটার এখন অত্যন্ত মূল্যবান, যা তার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে
- 📌 যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লাইটারের সংকট এতটাই তীব্র যে অনেক পরিবার একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে
- 📌 গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে অবস্থানরত ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মানসুর লাইটারের অভাবে তার ব্যবসায় ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন
- 📌 জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট অব্যাহত রয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজায় যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের মধ্যেও সাধারণ একটি লাইটার এখন হয়ে উঠেছে জীবনধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রান্না, রুটি তৈরি, পানি গরম করা কিংবা শিশুর জন্য দুধ গরম করা—সবকিছুর জন্য আগুন প্রয়োজন, আর সেই আগুন জ্বালাতে এখন লাইটারের বিকল্প নেই। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে এক শেকেলে তিনটি লাইটার পাওয়া যেত, সেখানে এখন একটি লাইটারের দাম দাঁড়িয়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়।
৪৬ বছর বয়সী রাবাব দেইফাল্লাহ নামের এক নারী তার পাঁচ সন্তান নিয়ে গাজায় বসবাস করেন। তার কাছে এখন পুরোনো একটি লাইটার অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই আগুনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আগুন জ্বালানোর শুরুটা একটি লাইটার দিয়ে, আর এই ছোট জিনিসটিই এখন গাজায় পাওয়া সবচেয়ে কঠিন জিনিসগুলোর একটি।’ যুদ্ধ শুরুর পর তার ছেলে কয়েকবার লাইটারটি মেরামত করেছে। সর্বশেষ মেরামত করতে তাকে ১২ ডলার খরচ করতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এই টাকা কি লাইটারের পেছনে খরচ করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?’
লাইটারের সংকটে অনেক পরিবার এখন মহামূল্যবান এই বস্তুটিকে একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। কখনো প্রতিবেশীর জ্বলন্ত আগুন থেকে একটি কার্ডবোর্ডে আগুন নিয়ে আসতে হচ্ছে। কখনো প্রতিবেশীর চুলায় গিয়ে খাবার রান্না করতে হচ্ছে। লাইটার না পেলে কোনো কোনো পরিবার দিনের পর দিন ঠান্ডা খাবার খেতেও বাধ্য হচ্ছে।
একই সংকটে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মানসুর। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ছয় সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তিনি মাটির চুলায় খাবার তৈরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু গ্যাসের সংকট এবং লাইটারের অভাবে তার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গ্রাস থাকলে চুলা জ্বালাতে সামান্য স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট, কিন্তু মাটির চুলায় আগুন ধরাতে লাইটারের মতো স্থিতিশীল আগুন প্রয়োজন।’
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পণ্য চলাচলে বিধিনিষেধ ও সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাজা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৩০ হাজারের বেশি ট্রাক প্রবেশ করলেও দৈনিক গড়ে ১৯১টির বেশি ট্রাক ঢোকেনি—যা যুদ্ধের আগের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
লাইটার না পাওয়ায় গাজায় নতুন একটি পেশারও জন্ম হয়েছে—লাইটার মেরামত। আল-কারমেল স্কুলের কাছে ছোট দোকান বসিয়ে ২৪ বছর বয়সী তামের আল-শাওয়িশ এখন এই কাজ করেই পরিবার চালান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের এমন কাজ করতে বাধ্য করেছে, যেসব কাজের কথা আমরা আগে কখনো ভাবিনি।’
‘লাইটার এখন জীবনের মেরুদণ্ড। আপনার তাঁবুতে লাইটার থাকলে আপনি ঠিক আছেন। না থাকলে আপনি আটকে গেছেন।’ — শাদি আবু শামলা, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, ফিলিস্তিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাবাব দেইফাল্লাহ (৪৬), হাসনা মানসুর (৪৩), তামের আল-শাওয়িশ (২৪), শাদি আবু শামলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: যুদ্ধ শুরুর আগে ১ শেকেলে ৩টি লাইটার, বর্তমান দাম ২৭-৩৩ ডলার, সর্বশেষ মেরামত খরচ ১২ ডলার, ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব প্রয়োজনের তুলনায় ১৯১টির বেশি নয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!