📌 ফ্রান্সে বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৩ জন আহত ও ৪৪৮ জন গ্রেফতার হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়ে।
ফ্রান্সে বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৪৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৮৬টি। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার আগ পর্যন্ত এই তথ্য পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সে বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।
- 📌 পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৪৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- 📌 প্যারিস, লিওঁ, রেন ও তুলুজ শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে; ১৮৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
- 📌 শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউর দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ শতাংশ কর্মী ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার আগ পর্যন্ত দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ৬৫ হাজার বিক্ষোভকারী ছিলেন। তবে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু প্যারিসেই সমবেত হয়েছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী।
সিজিটি মহাসচিব সোফি বেনে ধর্মঘটকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ বলে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না’। বিক্ষোভের সময় সব শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্যারিসের বিক্ষোভে সোফি বেনে বলেন, ‘কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না’। এছাড়াও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৮৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউর দাবি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ শতাংশ কর্মী ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্যারিস ও বোর্দোসহ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি সরাতে চেষ্টা করেছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল। শিক্ষার পরিবেশ, অর্থায়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের মধ্যেই এবার বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাপনের ব্যয় কমানোর দাবিতে দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
"কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, লিওঁ, রেন, তুলুজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোফি বেনে (সিজিটি মহাসচিব), সেবাস্তিয়েন লেকর্নু (প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪৮ জন গ্রেফতার, ৫৩ জন পুলিশ আহত, ৮৬টি অগ্নিসংযোগ, ৫ লাখ ৭৫ হাজার বিক্ষোভকারী, ৬৫ হাজার প্যারিসে বিক্ষোভকারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!