📌 পূর্ব এশিয়ায় বিরাজমান চরম দাবদাহে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংয়ে ফসল নষ্ট, গবাদিপশু ও খামারের মাছ মারা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে প্রেসিডেন্ট জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে কৃষিপণ্য ও জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আলুচাষি লি সং-হিয়ক তাঁর জমিতে আলু পচে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসকে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও ফসল ভালো ছিল। এখন মাটি যেন ওভেনের মতো গরম হয়ে গেছে। পুরো মাঠের আলুর একই অবস্থা।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ
- 📌 এই দাবদাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ লাখ গবাদিপশু ও ১৪ লাখ খামারের মাছ মারা গেছে
- 📌 জাপানের টোকিওর চিড়িয়াখানায় হিট স্ট্রোকে তিনটি সিংহের মৃত্যু হয়েছে
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং মন্ত্রিপরিষদকে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওয়ান প্রদেশের আলুচাষি লি সং-হিয়ক তাঁর জমিতে আলু পচে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগেও তাঁর ফসল ভালো ছিল, কিন্তু এখন মাটির তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে আলুগুলো পচে নরম হয়ে গেছে। তাঁর মতো একই অবস্থা দেখা দিয়েছে তরমুজ চাষিদের ক্ষেত্রেও। গুয়াংজু অঞ্চলের অভিজ্ঞ তরমুজ চাষি হং কিয়ং-হি জানান, কয়েক দিনের গরমে তাঁর তরমুজগুলো গলে নরম মণ্ডে পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়ানসানে ২ আগস্ট তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশটির ডিজিজ কন্ট্রোল এজেন্সির তথ্যমতে, এই দাবদাহের কারণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তীব্র গরমে ৯ লাখের বেশি গবাদিপশু এবং ১৪ লাখের বেশি খামারের মাছ মারা গেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় কর্তৃপক্ষ ঘরের বাইরের সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে সর্বাত্মক দাবদাহের সতর্কতা জারি করেছে।
জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় হিট স্ট্রোকে তিনটি সিংহ মারা গেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা এই বছর ৪০ ডিগ্রির ওপরের তাপমাত্রার জন্য প্রথমবারের মতো ‘কোকুশোবি’ নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে।
‘এমন চরম আবহাওয়া আমরা আগে কখনো দেখিনি। জলবায়ুর এই চরম রূপই যেহেতু নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে, তাই জাতীয় সংকট মোকাবিলা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে।’ — দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলুচাষি লি সং-হিয়ক, প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২, ৩১, ৯ লাখ, ১৪ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!