📌 প্রথম আলো ট্রাস্টের মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন ও শিক্ষকের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রযুক্তির প্রভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং শিক্ষকদের তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে
প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজিত ১৮১তম অনলাইন পরামর্শ সভায় তিনি শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৮১তম অনলাইন পরামর্শ সভায় ডা. ফারজানা রহমান শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
- 📌 প্রযুক্তির প্রভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধারণের ক্ষমতা বর্তমানে ৯ থেকে ১৫ মিনিটে নেমে এসেছে, যা আগের তুলনায় ৩০ মিনিটের থেকে কম।
- 📌 শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিক ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারেন তাদের আচরণের পরিবর্তন থেকে, যেমন: প্রাণচঞ্চলতা কমে যাওয়া, মনোযোগের অবনতি, আচরণগত তীব্র পরিবর্তন এবং হতাশাজনক কথা বলা।
- 📌 শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময়ে তাদের সাথে থাকেন, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করে।
📰 বিস্তারিত
ডা. ফারজানা রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরাও বিশ্বের উন্নত দেশের জীবনযাত্রার সাথে তুলনা করতে পারছে। এই প্রযুক্তির প্রভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধারণের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্বে যে বয়সের শিশুরা টানা ৩০ মিনিট মনোযোগ দিতে পারত, বর্তমানে তা ৯ থেকে ১৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান শিক্ষকের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রথম আইকন হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকের কথাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। শিক্ষকরা দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারেন। যেমন, প্রাণচঞ্চলতা কমে যাওয়া, মনোযোগের অবনতি, আচরণগত তীব্র পরিবর্তন এবং হতাশাজনক কথা বলা। এই লক্ষণগুলো দেখলে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
ডা. ফারজানা রহমান আরও বলেন, শিশুদের মনস্তত্ত্ব অত্যন্ত নাজুক। পারিবারিক অশান্তি, আবেগীয় অবহেলা, সামাজিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণগুলো তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষকদের এই কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
"শিক্ষক হলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম প্রধান প্রেরণা। আমাদের সমাজে শিশুরা যতই জেমস বন্ড, স্পাইডারম্যান বা সুপারম্যানের ভক্ত হোক না কেন, বাস্তব জীবনে তাদের প্রথম আইকন বা আইডল কিন্তু থাকেন তাদের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকগণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রথম আলো ট্রাস্টের কার্যালয়, কারওয়ান বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ফারজানা রহমান (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮১তম অনলাইন পরামর্শ সভা, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৯-১৫ মিনিট, ৬-৮ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!