📌 সাবিনা ইয়াসমীনের গান শুনে লতা মঙ্গেশকরের চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৭৮ সালে মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানে সাবিনার গায়কির প্রশংসা করে লতা তাকে ‘আওয়াজ কি দেবী’ বলে অভিহিত করেন। সাবিনা ইয়াসমীন ৪ সেপ্টেম্বর জন্মদিন উদযাপন করছেন
সাবিনা ইয়াসমীনের গান শুনে উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠস্বর লতা মঙ্গেশকরের চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। ৪ সেপ্টেম্বর সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিনে এই স্মরণীয় ঘটনা আবারো স্মরণে আসছে। ১৯৭৮ সালে মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমীনের গায়কির ভূয়সী প্রশংসা করে লতা মঙ্গেশকর তাকে ‘আওয়াজ কি দেবী’ বলে অভিহিত করেন। সেই অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমীনের গান শুনে লতা মঙ্গেশকরের চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লতা মঙ্গেশকরের চোখে পানি: সাবিনা ইয়াসমীনের ‘নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা’ গান শুনে লতা মঙ্গেশকরের চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি। শচীন দেব বর্মণ তাকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ দেন।
- 📌 লতা মঙ্গেশকরের সাক্ষাত: সাবিনা ইয়াসমীন লতা মঙ্গেশকরের সামনে গান গাওয়ার জন্য ভয়ে পালিয়ে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গান গাইতে বাধ্য হন। লতা তার গায়কির প্রশংসা করেন।
- 📌 ১০ হাজার গানের কিংবদন্তি: সাবিনা ইয়াসমীন মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক দিয়ে সংগীতজগতে পা রাখেন। এ পর্যন্ত তিনি অন্তত ১০ হাজার গান গেয়েছেন।
- 📌 স্মরণীয় সফর: ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে মুম্বাই সফরে সাবিনা ইয়াসমীন উপমহাদেশের বিভিন্ন শহর সফর করেন। সেই সফরে তিনি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
- 📌 জাতীয় পুরস্কার: সাবিনা ইয়াসমীন ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের মাধ্যমে সংগীতজগতে পা রাখেন সাবিনা। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। সাবিনা ইয়াসমীনের জীবনের নানা স্মরণীয় ঘটনা তার জন্মদিনে আবারো স্মরণে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ঘটনা।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে মুম্বাই সফরে সাবিনা ইয়াসমীন উপমহাদেশের বিভিন্ন শহর সফর করেন। সেই সফরে তিনি মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে হারমোনিয়াম নিয়ে গান গাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মণ। শচীন দেব বর্মণের অনুরোধে সাবিনা গেয়ে শোনান ‘নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা’ গানটি। কোনো বাদ্যযন্ত্রী ছাড়াই শুধু হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানটি পরিবেশন করেন তিনি।
গান শেষ হওয়ার পর শচীন দেব বর্মণ মাথা তুলে দেখেন, সাবিনা ইয়াসমীনের চোখে পানি ধরে আছে। তিনি সাবিনাকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ করেন। এরপর সাবিনা আরেকটি গান গাইতে শুরু করলেন। সেই সময় করিডোর দিয়ে লতা মঙ্গেশকর আসতে দেখে ভয়ে হারমোনিয়াম ফেলে পালিয়ে যান সাবিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লতা মঙ্গেশকরের সামনে গান গাইতে বাধ্য হন তিনি। লতা মঙ্গেশকরের সামনে সাবিনা প্রথমে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’ গানটি পরিবেশন করেন। গান শেষ হওয়ার পর লতা তার কণ্ঠ ও গায়কির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই প্রশংসায় স্বাভাবিকভাবেই লজ্জা পেয়েছিলেন সাবিনা।
সাবিনা ইয়াসমীন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। লতা তাকে জানিয়েছিলেন, বাংলা গান গাইতে তার খুব ভালো লাগে। বাংলা ভাষাটিও তার কাছে খুব মিষ্টি লাগে বলে জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের স্মৃতি এখনো সাবিনা ইয়াসমীনের মনকে আবেগাপ্লুত করে রাখে। তিনি মনে করেন, লতার চলে যাওয়া উপমহাদেশের সংগীতজগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
"আমি মনে করি, লতার চলে যাওয়া উপমহাদেশের সংগীতজগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আমাদের দেশের গানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (ভারত), দিল্লি, চেন্নাই, কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবিনা ইয়াসমীন, লতা মঙ্গেশকর, শচীন দেব বর্মণ, ববিতা, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, কাজী জহির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার (গানের সংখ্যা), ১৩ বছর (বয়স), ১৪ বার (জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!