📌 বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক ড্যানিয়েল ক্রাউস তাঁর সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’-এর মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন মানবতার সংকট ও যুদ্ধের নির্মমতা তুলে ধরেছেন। পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী এই লেখকের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর সৃষ্টিশীলতার বৈচিত্র্যময় ধারা ও যুদ্ধ-উপন্যাসের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কথাসাহিত্যিক ড্যানিয়েল ক্রাউস তাঁর সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। নিউইয়র্ক বেস্টসেলার হিসেবে স্বীকৃত এই উপন্যাসটি ২০২৬ সালের পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন জন্মগ্রহণ করা ক্রাউস তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখনশৈলীর জন্য পরিচিত। সম্প্রতি ওয়েবপোর্টাল ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফিকশন’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর নতুন কর্ম সম্পর্কে বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ উপন্যাসটি পাঁচ মার্কিন বেসরকারি সৈনিকের গল্প নিয়ে রচিত, যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন একজন দেবদূতের দেখা পায়
- 📌 দেবদূতটির ক্ষমতা ছিল পুরো পৃথিবীকে রক্ষা করার, কিন্তু সৈনিকদের ব্যক্তিগত স্বার্থ তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে
- 📌 উপন্যাসটি একটিমাত্র বাক্যে লেখা হয়েছে, যা যুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির প্রতীক হিসেবে কাজ করে
- 📌 ক্রাউস তাঁর লেখনশৈলীকে যুদ্ধের অনবরত ঘূর্ণায়মান চাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন
- 📌 ‘হোয়েলফল’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির কাজ এখনও চলমান রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ড্যানিয়েল ক্রাউস তাঁর সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ সম্পর্কে বলেন, এটি মূলত পাঁচ মার্কিন বেসরকারি সৈনিকের জীবনের গল্প, যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন একজন দেবদূতের দেখা পায়। যুদ্ধের সময় আর্টিলারি ফায়ারে আহত হয়ে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া সেই দেবদূতটির এমন ক্ষমতা ছিল যে সে পুরো পৃথিবীকেও রক্ষা করতে পারত। তবে সৈনিকদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লোভ তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, যার ফলে তারা দেবদূতটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। ক্রাউস বলেন, এই উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি মানবজাতির যুদ্ধপ্রবণতা ও শিল্পায়িত সহিংসতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।
ক্রাউস তাঁর লেখনশৈলী সম্পর্কে বলেন, ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ উপন্যাসটি একটিমাত্র বাক্যে লেখা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক গঠনরীতি যুদ্ধের অনবরত ঘূর্ণায়মান চাকার মতো কাজ করে, যা পাঠককে বইয়ের ভেতর আটকে রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই লেখনশৈলী পাঠকের মধ্যে যুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ক্রাউস বলেন, তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে বেছে নিয়েছেন কারণ এটি এমন এক সময় ছিল যখন যুদ্ধপ্রযুক্তি মানবিক সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই যুদ্ধ থেকেই পরবর্তীকালে পারমাণবিক যুদ্ধ ও সামরিক ড্রোনের উদ্ভব ঘটে।
ক্রাউস তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখনশৈলী সম্পর্কে বলেন, তিনি বিভিন্ন ঘরানা ও লেখনশৈলী নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যই তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি বিচিত্রভাবে পড়ি, সিনেমা দেখি, শুনি এবং লিখিও। কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চাই না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তাঁর কাজগুলো একে অপরের থেকে এতটাই আলাদা যে তারা একঘেয়েমি কাটানোর উপায় হিসেবে কাজ করে।
"আমি অন্য যুদ্ধকেও বিবেচনা করেছিলাম, কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধটা এমন এক সময় হয়েছিল, যখন যুদ্ধপ্রযুক্তি সব মানবিক সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যখন মানুষকে না দেখেই নির্বিচারে হত্যা করা সম্ভব হয়ে উঠেছিল। এই বিশ্বযুদ্ধ থেকেই সরাসরি একটা পথ গেছে পারমাণবিক যুদ্ধ, সামরিক ড্রোন আর ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দিকে, যা শেষ পর্যন্ত মানবজাতিকেই ধ্বংস করে দেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড্যানিয়েল ক্রাউস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৭৫ (জন্ম সাল), ২০২৬ (পুলিৎজার পুরস্কার বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!