📌 বংশগত জিনের কারণে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে কারও স্তন ক্যানসার থাকলে তা অন্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্কয়ার হাসপাতালের অনকোলজিস্ট ডা. অরুনাংশু দাস জানিয়েছেন, মা-বাবা উভয়ের দিক থেকেই এই ঝুঁকি উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে
বংশগত কারণে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবারের কোন কোন সদস্যের স্তন ক্যানসার থাকলে তা অন্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেই সম্পর্কগুলো বিশদে তুলে ধরেছেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের অনকোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুনাংশু দাস। তাঁর মতে, স্তন ক্যানসারের সঙ্গে জিনগত সম্পর্ক থাকলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও সেই ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে পরিবারের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে কারও স্তন ক্যানসার থাকলে
- 📌 মা-বাবা উভয়ের দিক থেকেই বংশগত জিন উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে
- 📌 প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে কারও ৪০ বছরের আগে স্তন ক্যানসার হলে ঝুঁকি বেশি
- 📌 অন্তত দুজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়ের স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়
- 📌 পরিবারের তিনজন দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়ের স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি বাড়ে
📰 বিস্তারিত
স্তন ক্যানসারের সঙ্গে জিনগত সম্পর্ক থাকলে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের অনকোলজিস্ট ডা. অরুনাংশু দাস। তাঁর মতে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মায়ের দিকের ইতিহাস নয়, বাবার দিকের পারিবারিক ইতিহাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বংশগত ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট জিন মা কিংবা বাবা—দুই দিক থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ধারণে আত্মীয়তার ধরন জানা জরুরি। সব আত্মীয়ের সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্য একইভাবে মিলবে না। তাই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বোঝার জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের আত্মীয়দের সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে মা-বাবা, আপন ভাইবোন ও নিজ সন্তান। দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে আপন মামা, চাচা, খালা, ফুফু, ভাগনে-ভাগনি, ভাতিজা-ভাতিজি, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও নাতি-নাতনি। তৃতীয় পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছে দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের ভাইবোনেরা, মামাতো, চাচাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাইবোন এবং প্রপিতামহ-প্রপিতামহী।
যাঁদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়দের মধ্যে কোনো নারীর যদি ৪০ বছর বয়স হওয়ার আগে স্তন ক্যানসার হয়। এছাড়া অন্তত একজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয় এবং একজন দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়ের যেকোনো বয়সে স্তন ক্যানসার থাকলে, অথবা অন্তত দুজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়ের স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়। একইভাবে অন্তত তিনজন দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়ের স্তন ক্যানসার থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে।
এছাড়া একজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়ের দুই স্তনেই ক্যানসার হলে এবং প্রথম স্তন ক্যানসার তাঁর ৫০ বছরের আগে হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দুইজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয় কিংবা একজন প্রথম পর্যায়ের আত্মীয় ও একজন দ্বিতীয় পর্যায়ের আত্মীয়ের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. অরুনাংশু দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর, ৫০ বছর, ১৫০ মিনিট, ৭৫ মিনিট, ৩০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!