📌 লন্ডনের গবেষকেরা উদ্ভাবন করেছেন শতভাগ পচনশীল ‘বায়োলুন’, যা মাত্র নয় মাসে মাটিতে মিলিয়ে যাবে। সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য বিপজ্জনক সাধারণ বেলুনের বিকল্প হিসেবে এই আবিষ্কার। ২০২৮ সালেই বাজারে আসবে পরিবেশবান্ধব এই বেলুন
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকেরা বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জৈববিয়োজ্য পার্টি বেলুন ‘বায়োলুন’ উদ্ভাবন করেছেন। সাধারণ বেলুন যেখানে মাটিতে পচতে বছরের পর বছর লাগে এবং পরিবেশ দূষণ করে, সেখানে এই নতুন বেলুন মাত্র নয় মাসের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিলিয়ে যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকেরা উদ্ভাবন করেছেন শতভাগ পচনশীল ‘বায়োলুন’
- 📌 সাধারণ বেলুন মাটিতে পচতে বছরের পর বছর সময় লাগে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর
- 📌 নতুন এই বেলুন মাত্র নয় মাসের মধ্যেই মাটির সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাবে
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক পাখিদের জন্য বেলুন হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য
- 📌 শক্ত প্লাস্টিকের টুকরা খাওয়ার চেয়ে বেলুন গিলে ফেলা পাখিদের জন্য ৩২ গুণ বেশি প্রাণঘাতী
- 📌 গবেষকেরা আশা করছেন, ২০২৮ সালের মধ্যেই বায়োলুন বাজারে বিক্রি শুরু করা সম্ভব হবে
- 📌 ‘বায়োলুন’ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান সাধারণ বেলুনের মতোই সহজে ফোলানো যায়
- 📌 ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ২৯ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী জুলিয়ানা কামিং এই বেলুনের সহনির্মাতা
📰 বিস্তারিত
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকেরা বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জৈববিয়োজ্য পার্টি বেলুন ‘বায়োলুন’ উদ্ভাবন করেছেন। সাধারণ বেলুন যেখানে মাটিতে পচতে বছরের পর বছর সময় লাগে এবং পরিবেশ দূষণ করে, সেখানে এই নতুন বেলুন মাত্র নয় মাসের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিলিয়ে যাবে। গবেষকেরা জানান, সাধারণ বেলুন উৎসবের পর আবর্জনা হয়ে নদী, সমুদ্র বা সৈকতে গিয়ে পড়ে, যা সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখিদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, সামুদ্রিক পাখিদের জন্য বেলুন হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্য। শক্ত প্লাস্টিকের টুকরা খাওয়ার চেয়ে বেলুন গিলে ফেলা পাখিদের জন্য ৩২ গুণ বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবেই উদ্ভাবন করা হয়েছে ‘বায়োলুন’।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের হিসেবে, পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন বেলুন বিক্রি হয়। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই জানেন না যে সাধারণ বেলুন পরিবেশের কত ক্ষতি করে। বিজ্ঞাপনে পচনশীল বলা হলেও এগুলো সহজে মাটিতে মেশে না। বরং সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখিদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনে।
‘বায়োলুন’ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান সাধারণ বেলুনের মতোই সহজে ফোলানো যায়। গবেষকেরা জানান, তাঁরা শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এই বিশেষ ফর্মুলা তৈরি করেছেন। সাধারণ বেলুন তৈরির সময় তরল ল্যাটেক্সকে শক্ত রাবারে রূপান্তর করতে সালফার ও নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়, যা বেলুনকে মাটিতে মিশতে বাধা দেয়।
"গবেষণাগারে একটি ফ্লাস্কে রাখা বিশেষ হলুদ তরল জমাট বেঁধে সাধারণ বেলুনের মতোই নরম ও স্থিতিস্থাপক উপাদানে পরিণত হয়। সাধারণ বেলুন বহুকাল টিকে থাকলেও এই বেলুন মাত্র নয় মাসের মধ্যেই মাটির সঙ্গে পুরোপুরি পচে মিশে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জুলিয়ানা কামিং (২৯ বছর, পিএইচডি শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ মাস, ৩২ গুণ, ২০-২৫ বিলিয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!