📌 ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে আলোচনা উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী প্রচারণার অভিযোগে। গ্রিসের ছোট শহর মার্কোপুলোয় স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি প্রকৃত ঐতিহ্য নাকি পশ্চিমা প্রভাবের নতুন রূপ?
গ্রিসের পূর্ব অ্যাটিকা অঞ্চলের ছোট শহর মার্কোপুলো মেসোগাইয়াসে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহ ‘আর্টেমিস’। সেখানকার স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে বসে ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ দেখার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হলিউডের বিশাল প্রচারণা ও আইম্যাক্সের চোখধাঁধানো আয়োজনের বিপরীতে এই প্রেক্ষাগৃহ ছিল পুরোপুরি বাস্তব। চলচ্চিত্রটির মধ্যেও বিরতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে দর্শকেরা স্বাভাবিকভাবে টয়লেটে যেতে পারেন বা পপকর্ন নিতে পারেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে আলোচনা উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী প্রচারণার অভিযোগে
- 📌 গ্রিসের পূর্ব অ্যাটিকা অঞ্চলের মার্কোপুলো শহরে অবস্থিত ‘আর্টেমিস’ প্রেক্ষাগৃহে স্থানীয় দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি দেখা হয়েছিল
- 📌 চলচ্চিত্রটির মধ্যেও বিরতি দেওয়া হয়েছিল, যা হলিউডের বিশাল আয়োজনের বিপরীতে দর্শকদের জন্য স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা ছিল
- 📌 লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, চলচ্চিত্রটি কি প্রকৃত গ্রিক ঐতিহ্য তুলে ধরছে নাকি পশ্চিমা প্রভাবের নতুন রূপ হিসেবে কাজ করছে
📰 বিস্তারিত
গ্রিসের পূর্ব অ্যাটিকা অঞ্চলের ছোট শহর মার্কোপুলো মেসোগাইয়াস। সেখানকার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহ ‘আর্টেমিস’। এই প্রেক্ষাগৃহটি নির্মিত হয়েছিল ১৯০৪ সালে। এর পেছনেই রয়েছে সেন্ট জন অর্থোডক্স চার্চ। এই প্রেক্ষাগৃহে স্থানীয় প্রায় দুই ডজন গ্রিক দর্শকের সঙ্গে বসে ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ দেখার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হলিউডের কোটি কোটি ডলারের প্রচারণা ও আইম্যাক্সের বিশাল আয়োজনের বিপরীতে এই প্রেক্ষাগৃহ ছিল পুরোপুরি বাস্তব। চলচ্চিত্রটির মধ্যেও বিরতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে দর্শকেরা স্বাভাবিকভাবে টয়লেটে যেতে পারেন বা পপকর্ন নিতে পারেন। সেই মুহূর্তে নোলানের চলচ্চিত্রের আকার ও বিশালত্বের প্রতি আসক্তি যেন মানুষের স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে এল।
লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ কি প্রকৃত গ্রিক ঐতিহ্য তুলে ধরছে নাকি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের নতুন মুখোশ হিসেবে কাজ করছে? হোমার ও তাঁর মহাকাব্য ইলিয়াড ও ওডিসি গ্রিসের সম্পদ। কিন্তু এগুলো কি সেই মানুষদের সম্পদ, যাদের সঙ্গে লেখক মার্কোপুলো শহরের সাদামাটা প্রেক্ষাগৃহে বসে চলচ্চিত্রটি দেখেছেন? নাকি এগুলো এমন এক কৃত্রিম প্রাচীন সভ্যতার অংশ, যার সাংকেতিক নাম ‘পশ্চিম’? লেখকের মতে, ইউরোপীয় বর্ণবাদী পণ্ডিতদের মতাদর্শিক প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক গ্রিকদের তাঁদের নিজেদের ভাষা, সাহিত্য ও দর্শনের ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল গ্রিসকে ‘পশ্চিমা সভ্যতার’ কাল্পনিক ভিত্তি হিসেবে নতুন করে নির্মাণ করা।
লেখক আরও উল্লেখ করেছেন, গ্রিসের এশিয়া মাইনর বা আনাতোলিয়ার সঙ্গে তার স্বাভাবিক ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। অথচ আনাতোলিয়াই সেই ভূখণ্ড, যেখানে গ্রিস, তুরস্ক, লেভান্ট, মিসর ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যে বহু গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক যোগসূত্র গড়ে উঠেছিল। এই প্রতারণামূলক মতাদর্শিক কৌশলের শিকড় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের বর্ণবাদী আগ্রাসনের মধ্যেও রয়েছে। ফলে গ্রিসকে তার ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়াম বা প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আধুনিক ঔপনিবেশিক স্বার্থে ব্যবহারের জন্য।
"হোমার ব্রিটিশ, আমেরিকান বা জার্মান ছিলেন না। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতকে এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলের আয়োনিয়া অঞ্চলে বাস করতেন। ওই এলাকা আজকের তুরস্কের অংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ব অ্যাটিকা, গ্রিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টোফার নোলান, হোমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই ডজন (স্থানীয় দর্শক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!