📌 লাতিন আমেরিকার অবকাঠামো খাতে বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে বেইজিং।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অবকাঠামো খাতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে বেইজিং।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সত্ত্বেও লাতিন আমেরিকার স্থানীয় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীন
- 📌 পেরুর রাজধানী লিমার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে
- 📌 আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি প্রদেশে লিথিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো
- 📌 লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন শহরের পুলিশদের অস্ত্রসরঞ্জাম ও হাজার হাজার নজরদারি ক্যামেরা সরবরাহ করছে চীন
- 📌 লাতিন আমেরিকায় চীনের বার্ষিক সরকারি ঋণ কমিয়ে এনেছে ১৩০ কোটি ডলারে
- 📌 ২০২৪ সালে বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে
📰 বিস্তারিত
বছরের পর বছর ধরে লাতিন আমেরিকায় চীনের বড় বড় প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। পেরুর চাংকাই বন্দর ও ইকুয়েডরের কোকা কোডো সিনক্লেয়ার বাঁধ নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। লাতিন আমেরিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ভিসা বাতিল ও বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, চীনের প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার সরকারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে বেইজিং।
তবে চীন এখন আর বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে না। তারা স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ও সূক্ষ্ম উদ্যোগ গ্রহণ করছে। যেমন, আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি প্রদেশে লিথিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। পেরুর রাজধানী লিমার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া বিভিন্ন শহরের পুলিশদের অস্ত্রসরঞ্জাম ও হাজার হাজার নজরদারি ক্যামেরা সরবরাহ করছে চীন।
এসব পদক্ষেপকে আলাদাভাবে দেখলে সাধারণ মনে হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এগুলো অঞ্চলটিকে চীনের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। লিমার বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাও চীনা নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। লাতিন আমেরিকার অনেক শহর ও প্রদেশ আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবার জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
"বড় ও দৃশ্যমান প্রকল্পের বদলে স্থানীয় পর্যায় থেকে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বেইজিং। তারা এখন আর পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়তে কোটি কোটি ডলারের বড় প্রকল্পের ওপর ভরসা করছে না।"
২০১০-এর দশকের বেশির ভাগ সময়জুড়ে লাতিন আমেরিকার অবকাঠামো খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। এর মধ্যে ছিল বন্দর, বিশালাকার বাঁধ এবং আন্তমহাদেশীয় রেলপথ। তবে ২০২০-এর দশকের শুরু থেকে গতিপথ বদলে ফেলে চীন। তারা দেখেছে, বড় প্রকল্প তৈরিতে খরচ অনেক বেশি এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ফলে তারা ‘ছোট কিন্তু সুন্দর’ কৌশলে নজর দিচ্ছে।
লাতিন আমেরিকায় চীনের বার্ষিক সরকারি ঋণ কমিয়ে এনেছে ১৩০ কোটি ডলারে। তবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালেও লাতিন আমেরিকায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই টাকা সরাসরি বেইজিংয়ের সরকারি ঋণ হিসেবে আসছে না। এটি আসছে বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লাতিন আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩০ কোটি ডলার, ৮৫০ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!