📌 ব্রিটেন প্রথম পাঁচ বছরে চারটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একসাথে সাগরে পাঠিয়েছে। এই পদক্ষেপের পিছনে নাটকীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও ন্যাটো সুরক্ষার নতুন দিক রয়েছে
ব্রিটেনের নৌবাহিনী প্রথম পাঁচ বছরে চারটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একসাথে সাগরে পাঠিয়েছে। এই অদ্ভুত পদক্ষেপের পিছনে ন্যাটো সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির নতুন দিক রয়েছে। দ্য টাইমস রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই তিনটি সাবমেরিনের মধ্যে একটির উপর বলিষ্ঠ মিসাইল রয়েছে, যা নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটেনের চারটি ভ্যাঙ্গার্ড-ক্লাস সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একসাথে সাগরে পাঠানো হয়েছে — এই ধরনের ঘটনা পাঁচ বছরে প্রথম। সাবমেরিনগুলো হলো এইচএমএস ভ্যাঙ্গার্ড, এইচএমএস ভিগিল্যান্ট ও এইচএমএস ভেঞ্জেন্স।
- 📌 চতুর্থ সাবমেরিন এইচএমএস ভিক্টোরিয়াস বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে।
- 📌 ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট ন্যাটোর সকল সদস্য রাষ্ট্রের সুরক্ষার মূল ভিত্তি।
- 📌 ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ১০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি — কারণ শত্রুর ক্ষমতা বেড়েছে।
- 📌 ফ্রান্সের সাথে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক যৌথ বিমান অভ্যাসে নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক সিমুলেশন করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ব্রিটেনের নৌবাহিনীর একটি সূত্র দ্য টাইমসকে বলেছে, এই ধরনের একসাথে তিনটি সাবমেরিন সাগরে পাঠানো একটি অদ্ভুত পদক্ষেপ। ব্রিটেনের নৌবাহিনী সর্বদা অন্তত একটি সাবমেরিন সাগরে রাখে ন্যাটো সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য।
এই ঘটনা পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম। নেভি লুকআউট জানিয়েছে, ১৯৬৯ সাল থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে একটি সাবমেরিন সাগরে রয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিনের মনে করা হয়, এটি একটি প্যাট্রোল বোটকে প্রতিস্থাপন করছে, তৃতীয়টি সম্ভবত সাগরে পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণ করছে।
২০২১ সালে এইচএমএস ভিক্টোরিয়াস ২০৭ দিন সাগরে ছিল, যা সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২৫ সালে এইচএমএস ভ্যাঙ্গার্ড ২০০ দিন সাগরে ছিল — শুধু এক সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ন্যাটোর সকল সদস্য রাষ্ট্রের সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো ব্রিটেনের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট। এটি প্রতিটি মুহূর্তে ব্রিটেন ও ন্যাটো সাথীদের রক্ষা করে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ব্রিটেন ন্যাটোর একমাত্র ইউরোপীয় সাথী যারা তাদের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট ন্যাটোর সুরক্ষায় নিবেদন করেছে। ফলে ন্যাটোর সকল সদস্য রাষ্ট্রই ব্রিটেনের নিউক্লিয়ার সুরক্ষা থেকে উপকৃত হচ্ছে।’
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং দ্য টেলিগ্রাফে লেখেন, ১০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘শত্রুর ক্ষমতা বেড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা আক্রমণ করার অবস্থানে থাকতে পারে। তাই আমাদের ১০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এই বার্তা দেওয়ার আগে ব্রিটেনের সরকার ‘বি রেডি’ প্রচারণা শুরু করেছে। এই প্রচারণায় ঘরোয়া পরিবারকে বলা হয়েছে, তিন দিনের খাবার, পানি, নগদ টাকা ও হাতচালিত রেডিও সংরক্ষণ করুন।
স্ট্রিটিং-এর এই বার্তা দেওয়ার পরই জানা গেছে, রাশিয়া ব্রিটেনের সাবমেরিন কেবলগুলো ট্র্যাক করার জন্য মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করছে।
ফ্রান্সের সামরিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিটেনের রয়েল এয়ার ফোর্স টাইফুন বিমান ফ্রান্সের নিউক্লিয়ার সক্ষম বিমানকে এসকর্ট করেছে। এই যৌথ অভ্যাসে নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক সিমুলেশন করা হয়েছিল। ফ্রান্সের সামরিক মন্ত্রী ক্যাথেরিন ভোত্রিন বলেন, ‘আমাদের স্বাধীন নিউক্লিয়ার বাহিনী সমন্বয়কে বাধা দেয় না। ব্রিটেনের সাথে আমাদের নিউক্লিয়ার সহযোগিতা ক্রমাগত গভীর হয়ে উঠছে।’
‘ন্যাটোর সকল সদস্য রাষ্ট্রের সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো ব্রিটেনের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট। এটি প্রতিটি মুহূর্তে ব্রিটেন ও ন্যাটো সাথীদের রক্ষা করে।’
‘আমাদের স্বাধীন নিউক্লিয়ার বাহিনী সমন্বয়কে বাধা দেয় না। ব্রিটেনের সাথে আমাদের নিউক্লিয়ার সহযোগিতা ক্রমাগত গভীর হয়ে উঠছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রিটেন, ইউরোপ; ফ্রান্স, ইউরোপ; ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রসমূহ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ওয়েস স্ট্রিটিং (ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব), ক্যাথেরিন ভোত্রিন (ফ্রান্সের সামরিক মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি সাবমেরিন, ১০০০ দিন, ২০০ দিন, ২০৭ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!