📌 বারাক ওবামা দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর নানির কাছে বড় হয়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যা বিশ্বের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচনে তিনি পান ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট, যা ইতিহাসের অন্যতম সফল নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হয়
বারাক ওবামা, যিনি ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, তাঁর জীবনের এক অনন্য যাত্রা শুরু হয়েছিল শৈশবের এক বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে। দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি নানির কাছে বড় হয়ে ওঠেন। সেই নানিই ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর, নানিকে হারানোর মাত্র দুই দিন পর, ওবামা ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা, পান ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইন পান ১৭৩টি
- 📌 ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর ওবামার নানি ম্যাডেলিন ডানহ্যাম মারা যান, শোকের মধ্যেই আসে তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয়
- 📌 ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট হাওয়াইয়ের হনলুলুতে জন্মগ্রহণ করেন ওবামা, মা অ্যান ডানহ্যাম ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক, বাবা বারাক ওবামা সিনিয়র কেনিয়ার
- 📌 ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় ওবামার বই ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’, যেখানে তিনি বর্ণগত পরিচয় ও শৈশবের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন
- 📌 ২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামার মূল নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’, যা মার্কিন সমাজে নতুন আশা জাগিয়ে তোলে
📰 বিস্তারিত
বারাক ওবামা ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট হাওয়াইয়ের হনলুলুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা অ্যান ডানহ্যাম ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক, আর বাবা বারাক ওবামা সিনিয়র কেনিয়ার। দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর ওবামা মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় কাটান শৈশবের কিছু বছর। পরে তিনি হাওয়াইয়ে ফিরে আসেন এবং নানির কাছে বড় হন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে তাঁর বই ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’-এ প্রতিফলিত হয়, যেখানে বর্ণগত পরিচয় ও শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
ওবামা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন। এরপর তিনি শিকাগোতে যান কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে কাজ করার জন্য। সেখানে তিনি নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। পরবর্তীকালে তিনি হার্ভার্ডে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৯০ সালে হার্ভার্ড ল রিভিউয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সভাপতি হন। শিকাগোর একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় তিনি মিশেল রবিনসনের সাথে পরিচিত হন এবং ১৯৯২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামা মার্কিন ইতিহাসের একটি মাইলফলক সৃষ্টি করেন। তিনি ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট পান, যা ইতিহাসের অন্যতম সফল নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হয়। নির্বাচনের পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আশা করেছিলেন যে ওবামার জয় যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণগত পরিবর্তন আনে। ওবামা এমন সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন যখন যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সংকটে ভুগছিল এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী হতাশা ও ক্ষোভ ছিল। তাঁর নির্বাচনী স্লোগান ‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’ মার্কিন নাগরিকদের নতুন আশায় উদ্দীপ্ত করেছিল।
"‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’ — এমন পরিবর্তন দরকার, যেটাতে আমরা আস্থা রাখতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (হাওয়াই, শিকাগো, হার্ভার্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বারাক ওবামা, অ্যান ডানহ্যাম, জন ম্যাককেইন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, মিশেল রবিনসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট, ১৭৩টি ইলেকটোরাল ভোট, ২০০৮, ৪ নভেম্বর, ২ নভেম্বর, ২০ জানুয়ারি, ৪৪তম প্রেসিডেন্ট, ৪৭ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!