📌 বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে জাপানের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা** উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
- 📌 **জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান** জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এলএনজি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।
- 📌 **বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব** তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- 📌 **মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ** প্রকাশ করেন তিনি।
- 📌 **দ্রুতগতির রেল ও উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা** নিয়ে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 **রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান** জানান তিনি।
- 📌 **জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা** প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 **ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি** তুলে ধরেন তিনি।
- 📌 **মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব** দেন প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার সুযোগগুলো কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যায়ন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাপানের সরকার ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সহযোগিতা চান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এছাড়াও, তিনি জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, এই টেক পার্কের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
"এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। আমরা সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টোকিও, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর, ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, ৮১তম অধিবেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!