📌 কক্সবাজার উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন জ্বলছে ২ দিন। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন নিভবে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও এলাকায় সীমাবদ্ধতা জারি করা হয়েছে
কক্সবাজার উখিয়ায় গভীর নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন বুধবার সকাল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মঙ্গলবার সকাল সাতটায় ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে গ্যাসের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দিতে হবে। জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে গ্যাস অন্য দিকে ছড়িয়ে বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঙ্গলবার সকাল ৭টায় উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী এলাকায় নলকূপ খননের সময় স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরণে আগুন জ্বলেছে ২ দিন।
- 📌 বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্যাসের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দিতে হবে। জোর করে নেভানোর চেষ্টা করলে মাটির নিচে আগুন অন্য দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- 📌 ২০০-২৫০ বর্গমিটার এলাকা আগুনের আশপাশে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় লোকবসতি ও জনসমাগম নিষিদ্ধ।
- 📌 ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। ৪৫টি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁসহ ৮-৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন।
- 📌 বাতাসের তীব্রতা বাড়ার কারণে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সকাল সাতটায় ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ খননের সময় স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন জ্বলতে শুরু করে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছেন, মাটির নিচে গ্যাসের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দিতে হবে। জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে গ্যাস অন্য দিকে ছড়িয়ে বড় বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুর আরহাম বলেছেন, নলকূপের গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দিতে হবে। মাটির নিচের স্তরে গ্যাসের মজুত শেষ হলে আগুন নিজে নিভে যাবে। জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে মাটির নিচে আগুন অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, আগুনের আশপাশে ২০০ থেকে ২৫০ বর্গমিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত। ওই এলাকায় লোকবসতি ও জনসমাগম করা যাবে না।
ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন জ্বলতে পারে। আগের তুলনায় আগুনের তীব্রতা বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত এবং বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আগুন বের হওয়া নলকূপের মুখও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।
আগুনের কারণে মেরিন ড্রাইভের অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ৪৫টির বেশি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কায়সার নূর বলেছেন, আগুন বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লেগে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
"মাটির নিচের গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দিতে হবে। গ্যাস অন্য দিকে ছড়িয়ে গেলে বড় বিপদ হতে পারে।" — **এস এম নাফিফুর আরহাম**, বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়ন, ইনানী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা সিকদার, এস এম নাফিফুর আরহাম, কায়সার নূর, দোলন আচার্য্য, সাইদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ দিন (আগুন জ্বলছে), ২০০-২৫০ বর্গমিটার (বিচ্ছিন্ন এলাকা), ১৫ কিলোমিটার (বিদ্যুৎ বন্ধ এলাকা), ৪৫টি রিসোর্ট, ৮-৯ হাজার গ্রাহক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!