📌 বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামে রাতভর ১৬ থেকে ১৮টি হাতবোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এতে গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের তিন গ্রামে রাতভর একের পর এক হাতবোমার বিস্ফোরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তর বালিয়াতলী, উত্তর পাতারচর ও বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামে অন্তত ১৬ থেকে ১৮টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের মুলাদী উপজেলায় রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিন গ্রামে ১৬-১৮টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে
- 📌 বিস্ফোরণে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না, শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে
- 📌 ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তারকৃত 'বোমারু জামাল' এর সাথে বিস্ফোরণের সংযোগের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করেছেন, হাতবোমা তৈরির সময় ছয় যুবক আহত হয়েছেন, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
- 📌 মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, শিগগিরই সফিপুর ইউনিয়নে অভিযান চালানো হবে
📰 বিস্তারিত
গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় পরপর চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাত ৯টার দিকে পাশের বড় লক্ষ্মীপুর এলাকায় আরও চার থেকে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে উত্তর পাতারচর ও উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিছু সময় বিরতির পর রাত ১২টার দিকে আবারও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সফিউল্লাহ ঘরামী জানান, গত ১৮ অক্টোবর রাতে সফিপুর খেয়াঘাটে মাছঘাটের দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ৩৫টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ গত ২০ অক্টোবর বড় লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে 'বোমারু জামাল'কে গ্রেপ্তার করে।
সফিউল্লাহ ঘরামী আরও বলেন, ওই রাতেই উত্তর পাতারচর ও বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামে ১৫ থেকে ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। রাতের আঁধারে এসব বিস্ফোরণে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেকে রাতে ঘর থেকে বের হতেও সাহস পাচ্ছেন না। উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের আনসারুল্লাহ জানান, সফিপুর ইউনিয়নে একাধিক দল হাতবোমা তৈরি করে বলে তাঁদের ধারণা। তিনি বলেন, পুরোনো ও অভিজ্ঞ কারিগররা নতুনদের প্রশিক্ষণ দিতে হাতবোমা তৈরি করে বিস্ফোরণের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারেন। গত ২৩ অক্টোবর রাতে উত্তর বালিয়াতলী এলাকায় হাতবোমা তৈরির সময় ছয় যুবক আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আনসারুল্লাহের ধারণা, এক পক্ষের বিস্ফোরণের পর এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে অন্য পক্ষও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘গতকাল রাতের বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে কয়েকজন যুবক আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিগগিরই সফিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হবে।’
"গত ১৮ অক্টোবর রাতে সফিপুর খেয়াঘাটে মাছঘাটের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ৩৫টির মতো হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ গত ২০ অক্টোবর বড় লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে জামাল পালোয়ান ওরফে বোমারু জামালকে গ্রেপ্তার করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের মুলাদী উপজেলা, সফিপুর ইউনিয়ন (উত্তর বালিয়াতলী, উত্তর পাতারচর, বড় লক্ষ্মীপুর গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সফিউল্লাহ ঘরামী, আনসারুল্লাহ, খন্দকার মো. সোহেল রানা (ওসি), 'বোমারু জামাল'
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬-১৮টি বিস্ফোরণ, ৩৫টি হাতবোমা, ৬ জন আহত যুবক (দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!