📌 বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত। ভারতের সাথে স্থলসীমানা ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সাথে ২৭০ কিলোমিটার। ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য চিকেন নেক করিডোর ব্যবহৃত হয়। ট্রানজিট চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহারের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে
দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির স্থলসীমানা উত্তরে ভারতের রাজ্যগুলোর সাথে চার হাজার ১৫৬ কিলোমিটার, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের সাথে ২৭০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে উন্মুক্ত। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমানা ১৮০ কিলোমিটার, ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে ৮৫৬ কিলোমিটার, মেঘালয় রাজ্যের সাথে ৪৪৩ কিলোমিটার, আসাম রাজ্যের সাথে ২৬২ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে দুই হাজার ২১৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমানা দুই শতাধিক কিলোমিটার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের দক্ষিণ তটরেখার দৈর্ঘ্য ৫৮০ কিলোমিটার
- 📌 ভারতের সাতটি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যকে একত্রে 'সেভেন সিস্টার্স' বলা হয়
- 📌 চিকেন নেক করিডোরের দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২১ থেকে ৪০ কিলোমিটার
- 📌 ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা লাভে আগ্রহী
- 📌 ট্রানজিটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সীমিত পরিসরে মালামাল পরিবহন শুরু হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য— আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড— একত্রে 'সেভেন সিস্টার্স' নামে পরিচিত। এ রাজ্যগুলো চতুর্দিক থেকে অপর রাষ্ট্রের স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় যোগাযোগের জন্য চিকেন নেক করিডোর নামক সরু পথ ব্যবহার করে। এই করিডোরটির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২১ থেকে ৪০ কিলোমিটার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিকে অবস্থিত শিলিগুড়ি করিডোর নামেও পরিচিত এই পথটি। এর একপ্রান্ত বাংলাদেশ এবং অপরপ্রান্ত নেপাল, ভুটান ও ভারতের সিকিম রাজ্যের সাথে সংযুক্ত।
ভারত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সাত রাজ্যের সাথে সড়ক, রেল ও নৌপথে ট্রানজিট স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে নৌপথে ট্রানজিট চালু থাকলেও বিভিন্ন স্থানে নদীর নাব্যতা স্বল্পতার কারণে তা বছরব্যাপী কার্যকর নয়। অন্যদিকে সড়ক ও রেলপথে ট্রানজিট চালু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাংলাদেশে পুরোপুরি গড়ে না উঠলেও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সীমিত পরিসরে ট্রানজিটের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন শুরু হয়েছে।
ট্রানজিট চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যমান মাশুল অপ্রতুল হলেও ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি চরিতার্থ হচ্ছে বলে গবেষকদের অভিমত। ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমানা চার হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সাথে দুই শতাধিক কিলোমিটার। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখা ৫৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
"ট্রানজিট চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যমান মাশুল অপ্রতুল হলেও ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি চরিতার্থ হচ্ছে এমনটিই গবেষকদের অভিমত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার
- 👥 গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল: চট্টগ্রাম, সেভেন সিস্টার্স রাজ্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার ১৫৬ কিমি, ২৭০ কিমি, ৫৮০ কিমি, ৬০ কিমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!