📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রেলীয় নাগরিক সিরিল জেমস মূর ও এডনা বিয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের হাওর পেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলীয় সেনা কর্মকর্তা রোনাল্ড চেস্টারটন পটার। ঝড়ে নৌকা ডুবে তিনজনই মারা যান। তাদের সমাধি এখন নেত্রকোনার কুলপতাক গ্রামের একটি চার্চে রয়েছে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্থির সময়ে অস্ট্রেলীয় নাগরিক সিরিল জেমস মূর ও এডনা একটি প্রেমের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের হাওর পেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলীয় সেনা কর্মকর্তা রোনাল্ড চেস্টারটন পটার। কিন্তু ১৯৪৪ সালের ২৯ জুলাই ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকা ডুবে যায়। এই করুণ ঘটনায় তিনজন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জীবন হারিয়ে যায়। তাদের শেষ ঠিকানা হয়েছে নেত্রকোনার কুলপতাক গ্রামের একটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চের আঙিনায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৪ সালের ২৯ জুলাই মোহনগঞ্জ থেকে গোবিন্দশ্রী যাত্রায় ঝড়ে নৌকা ডুবে তিন অস্ট্রেলীয় নিহত হন — সিরিল জেমস মূর, এডনা ও রোনাল্ড চেস্টারটন পটার
- 📌 বিয়ের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ থেকে নৌপথে যাত্রা শুরু করে মূর-এডনা দম্পতি ও পটার; গন্তব্য ছিল নেত্রকোনার গোবিন্দশ্রী গ্রামের ব্যাপ্টিস্ট চার্চ
- 📌 তিনজনই সাঁতার জানতেন না; ঝড়ের রাতে পানিতে ডুবে মারা যান; স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দশ্রীতে সমাহিত করেন
- 📌 ১৯৫৮ সালে চার্চ স্থানান্তরিত হলে সমাধিগুলো কুলপতাক গ্রামে নিয়ে আসা হয়; এখন চার্চের আঙিনায় তিনটি সমাধি পাশাপাশি রয়েছে
- 📌 প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমাধি দেখতে আসেন
📰 বিস্তারিত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রেলীয় নাগরিক সিরিল জেমস মূর ও এডনা বাংলাদেশের নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বিয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলীয় সেনা কর্মকর্তা রোনাল্ড চেস্টারটন পটার। ১৯৪৪ সালের ২৮ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে মোহনগঞ্জে পৌঁছান তারা। এরপর নৌপথে যাত্রা শুরু করে মোহনগঞ্জ থেকে শাপমারা খাল হয়ে ডিঙ্গাপোতা হাওর পেরিয়ে গোবিন্দশ্রী গ্রামের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ঝড়ের রাতে নৌকা ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দশ্রী গ্রামের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পাশে সমাহিত করেন।
১৯৫৮ সালে চার্চের সদস্যরা মোহনগঞ্জের কুলপতাক গ্রামে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সমাধিগুলোও সেখানে নিয়ে আসা হয়। এখন কুলপতাক ব্যাপ্টিস্ট চার্চের আঙিনায় তিনটি সমাধি পাশাপাশি রয়েছে। একটি সমাধিতে শায়িত সিরিল জেমস মূর ও এডনা, আর পাশেই আলাদা সমাধিতে রয়েছেন রোনাল্ড চেস্টারটন পটার। সমাধিফলকে মূর ও এডনারকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুলপতাক ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সহকারী পালক ডেভিড দাস বলেন, চার্চটি একসময় মদন উপজেলায় ছিল। সেই সময় অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বসবাস ছিল। সিরিল ও এডনা বিয়ের জন্য ওই চার্চ বেছে নেন। ঝড়ের রাতে নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তিনজনই সাঁতার জানতেন না। স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে চার্চের পাশে সমাহিত করেন। চার্চ স্থানান্তরিত হওয়ার পর সমাধিগুলোও কুলপতাকে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমাধি দেখতে আসেন।
"ঝড়ের রাতে হাওর পেরিয়ে চার্চে যাওয়ার পথে তাঁদের নৌকাটি ডুবে যায়। তিনজনই সাঁতার জানতেন না। পরে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে চার্চের পাশে সমাহিত করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুলপতাক গ্রাম, মোহনগঞ্জ উপজেলা, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিরিল জেমস মূর, এডনা, রোনাল্ড চেস্টারটন পটার, ডেভিড দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৪৪ (বছর), ২৮ জুলাই (যাত্রা শুরু), ২৯ জুলাই (নৌকা ডুবে মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!