📌 বাদামি ও সাদা ডিমের পুষ্টিগুণে কোন পার্থক্য নেই বলে দাবি বিজ্ঞানীরা। ডিমের রং নির্ভর করে মুরগির জাত ও খাদ্যাভ্যাসের উপর, কিন্তু খোসার রঙ পুষ্টিগুণকে প্রভাবিত করে না। সতেজতা ও মুরগির খাদ্য পরিবেশই মূল ভূমিকা রাখে ডিমের পুষ্টির ক্ষেত্রে
সুপারমার্কেট বা স্থানীয় বাজারে ডিম কেনার সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে: বাদামি নাকি সাদা ডিম বেশি পুষ্টিকর? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকের মতে, বাদামি ডিমের পুষ্টিগুণ বেশি এবং এটি স্বাদেও সুস্বাদু। কিন্তু বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, ডিমের খোসার রং পুষ্টিগুণকে প্রভাবিত করে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিমের খোসার রং নির্ভর করে মুরগির জাতের ওপর — সাদা ডিম পাড়ে হোয়াইট লেগহর্ন, হোয়াইট রক জাতের মুরগি; বাদামি ডিম পাড়ে প্লাইমাউথ রক, রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি।
- 📌 একই জাতের মুরগি থেকে বাদামি ডিমের রং বয়স, রোগ বা পরিবেশের কারণে হালকা বা গাঢ় হতে পারে — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রং পুষ্টিগুণে কোনো প্রভাব ফেলে না।
- 📌 একটি মাঝারি ডিমে থাকে ৬০ ক্যালরি ও ৬ গ্রাম প্রোটিন; জাম্বো আকারের ডিমে ৯০ ক্যালরি ও ৮ গ্রাম প্রোটিন — রং কোনো প্রভাব রাখে না।
- 📌 উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা মুরগির ডিমে ভিটামিন ডি ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি থাকে — খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশই মূল ভূমিকা রাখে।
- 📌 বাদামি ডিমের দাম বেশি থাকার কারণ হলো ‘পুষ্টিকর’ ধারণা ও অরগানিক ডিমের বাজার চাহিদা — কিন্তু বিজ্ঞানী বলছেন, রং পুষ্টির সাথে সম্পর্কিত নয়।
📰 বিস্তারিত
ডিমের খোসার রং মূলত মুরগির শরীরে উৎপন্ন প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থের কারণে হয়। বাদামি ডিমের প্রধান রঞ্জক হলো প্রোটোপোরফাইরিন নাইন, যা রক্তের লাল উপাদান হিম থেকে তৈরি হয়। অন্যদিকে নীল বা সবুজ ডিমের রঞ্জক হলো বিলিভার্ডিন। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যারোকানা, আমেরিকানা, ডংক্সিয়াং ও লুসি জাতের মুরগি নীলচে-সবুজ ডিম পাড়ে, যা রং পরিবর্তন করে।
২০১৫ সালের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, একই জাতের মুরগি থেকে বাদামি ডিমের রং বয়স, রোগ, পরিবেশগত পরিবর্তন বা ভয়ের কারণে হালকা বা গাঢ় হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের খোসার রং সাদা বা বাদামি হোক না কেন, তাদের পুষ্টিগুণে কোনো পার্থক্য নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগির খাদ্য ও বসবাসের পরিবেশের উপর।
উন্মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা মুরগির ডিমে ভিটামিন ডি ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি থাকে। যদি মুরগিকে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ফ্ল্যাক্সসিড) বা ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য দেওয়া হয়, তবে ডিমের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম নিয়মিত খাওয়ার ফলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
আত্মবিশ্বাসের কারণে বাদামি ডিমের দাম বেশি থাকে। অতীতে বাদামি ডিমের মুরগি সাদা মুরগির তুলনায় বেশি খাবার খেত এবং কম ডিম দিত, ফলে উৎপাদন খরচ বেশি হত। বর্তমানে উৎপাদন খরচ প্রায় সমান হলেও, ‘বাদামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর’ এই ধারণা কাজে লাগিয়ে দাম বেশি রাখা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিমের খোসার রং শুধু একটি বাহ্যিক আবরণ — পুষ্টিগুণ নির্ভর করে মুরগির খাদ্য ও পরিচর্যার উপর।
"ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্য এবং তার বসবাসের পরিবেশের ওপর। সতেজতা ও তাপমাত্রা দেখেই ডিম নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পুষ্টিবিদ, বিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ ক্যালরি, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৯০ ক্যালরি, ৮ গ্রাম প্রোটিন, ৩-৪ গুণ ভিটামিন ডি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!