📌 হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নির্মিত ট্রমা সেন্টার ১৩ বছর পরও চালু হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য 'গোল্ডেন আওয়ার' চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় রোগীদেরকে দূরবর্তী হাসপাতালে পাঠাতে হয়। ২৪টি ট্রমা সেন্টারের মধ্যে এটি অন্যতম অচল কেন্দ্র।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নির্মিত ট্রমা সেন্টার ২০১৩ সাল থেকে চালু না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই সেন্টারটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান। কিন্তু ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে রোগীদেরকে হবিগঞ্জ, সিলেট বা ঢাকার দূরবর্তী হাসপাতালে পাঠাতে হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৩ বছর পরও অচল** বাহুবল ট্রমা সেন্টার — নির্মাণ ২০১৩ সালে শেষ হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি
- 📌 **গোল্ডেন আওয়ারে চিকিৎসা না পেয়ে** মারা যাচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা
- 📌 **২৪টি ট্রমা সেন্টারের মধ্যে** বাহুবলের সেন্টারটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে অচল কেন্দ্রের তালিকায়
- 📌 **২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো সম্পন্ন** হলেও চিকিৎসক, নার্স ও সরঞ্জামের ঘাটতি
- 📌 **চুরির ঘটনা** ঘটেছে ভবনে — সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত তিনতলা ট্রমা সেন্টারটি বাইরে থেকে দেখলে সচল হাসপাতালের মতো মনে হয়। কিন্তু ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় বেশিরভাগ কক্ষ খালি পড়ে আছে। নিচতলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি কার্যকর হয়নি।
২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত এই সেন্টারটি ২০১৩ সালে শেষ হলেও ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত বিভাগ স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অবকাঠামোগত কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ গ্রহণ করেনি। ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হলেও চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য 'গোল্ডেন আওয়ার' (প্রথম এক ঘণ্টা) চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু বাহুবলের ট্রমা সেন্টার চালু না থাকায় এই সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ২৪টি ট্রমা সেন্টারের মধ্যে বাহুবলের সেন্টারটি অচল কেন্দ্রের তালিকায় রয়েছে।
"সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থায় দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা গেলে গুরুতর আহত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।"
২০২৬ সালের এপ্রিলে ভবনে চুরির ঘটনা ঘটে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটিতে অন্য বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কিছু মালামাল ও যন্ত্রপাতি চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবকাঠামো ও সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহত রোগীরা, চিকিৎসক (নাম প্রকাশ না করা), স্থানীয় বাসিন্দা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা (নির্মাণ ব্যয়), ২০ শয্যাবিশিষ্ট, ২৪টি ট্রমা সেন্টার (অচল), ২৫ লাখ টাকা (অবকাঠামো সম্পন্ন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!