📌 রাজশাহীর ১৫০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও ওষুধের ঘাটতিতে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। প্রতিদিন ২৫০-৩০০ জন রোগী আসলেও শুধু ১০ জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীরা মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ১৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেলে সেবা বন্ধের আশঙ্কা জাগিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **চিকিৎসক সংকট**: ১০ জন চিকিৎসক দিয়েই বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা চালু রাখতে হচ্ছে। সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য রয়েছে।
- 📌 **নষ্ট যন্ত্রপাতি**: ল্যাবের মূল অ্যানালাইজার মেশিন প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে নষ্ট থাকায় শুধু আরবিএস ও ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করা যায়। বাকি পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে।
- 📌 **ওষুধের ঘাটতি**: রোগীদের অধিকাংশ ওষুধ কিনতে হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে।
- 📌 **রোগীদের অভিযোগ**: হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মজিবুর রহমান বলেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিন ধরনের সেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শারিকুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের এখানে মোট চিকিৎসকের পদ ১০টি, যার মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদটি শূন্য। ছয়জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগের রোগী দেখা ছাড়াও ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা চালু রাখতে হয়। চিকিৎসক সংকট ও সেবার পরিধির সাথে পদের সামঞ্জস্য না থাকায় নিয়মিত সেবা দিতে আমাদের ওপর চরম চাপ তৈরি হচ্ছে। পদের সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা আরও মানসম্মত সেবা পেতেন।’
ল্যাবরেটরির প্রধান অ্যানালাইজার মেশিনের অবস্থা নিয়ে এক ল্যাব সাপোর্ট স্টাফ বলেন, ‘এখানে আগে রোগীদের নানা ধরনের পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে ল্যাবের মূল মেশিনে সমস্যা থাকায় শুধু আরবিএস ও ইলেক্ট্রোলাইট ছাড়া অন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।’
রোগীরা ওষুধ ও পরীক্ষার ঘাটতির কারণে ক্ষুব্ধ। একটি নগরীর বাসিন্দা বলেন, ‘বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি দেখতে অনেক বড় হলেও ভেতরে ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া হাসপাতালে এসে জানা যায় অধিকাংশ পরীক্ষাই এখানে হয় না, আর ওষুধও কিনতে হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে।’
"জনবল ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা ১০ জন চিকিৎসক দিয়েই আউটডোর, ইনডোর ও ইমার্জেন্সি- তিন ধরনের সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও ভবন সংস্কারের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মো. শারিকুল ইসলাম, ডা. মোহা. মজিবুর রহমান, ল্যাব সাপোর্ট স্টাফ, নগরীর বাসিন্দা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ শয্যা, ২৫০-৩০০ জন রোগী, ১০ জন চিকিৎসক, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!